Monday, November 2, 2020

পুরুষ ও মহিলাদের নামাজের পার্থক্য



পুরুষ ও মহিলাদের নামাযের মধ্যে পার্থক্য : পর্ব ১ ♥


মুফতী মনসূরুল হক দা.বা.

প্রধান মুফতী ও শাইখুল হাদীস, 

জামি'আ রাহমানিয়া মাদরাসা,ঢাকা।


নামাযের শুরুতে মহিলাগণ সিনা ও কাঁধ বরাবর হাত উঠাবেঃ 


عن وائل بن حجرؓ قال : جئت النبی ۔ ﷺ ۔ فقال : ہذا وائل بن حجر جائکم لم یجئکم رغبۃ و لا رہبۃ جائکم حبا للہ و رسولہ ... الخ فقال لی رسول اللہ ۔ ﷺ ۔ یا وائل بن حجر إذا صلیت فاجعل یدیک حذاء أذنیک . والمرأۃ تجعل یدیہا حذاء ثدییہا . رواہ الإمام الطبرانی فی’’ الکبیر‘‘ ۲۲/۲۰(۲۸)


অর্থ: হযরত ওয়ায়েল ইবনে হুজর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি প্রিয়নবী ﷺ  এর দরবারে উপস্থিত হলাম। এরপর নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বললাম এই হল ওয়ায়েল ইবনে হুজর। আপনার দরবারে এসেছে, ভয়ে বা আশায় আসেনি বরং আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের ভালবাসায় এসেছে। তিনি বলেন (এক প্রসঙ্গে) প্রিয়নবী ﷺ  আমাকে বললেনঃ হে ওয়ায়েল ইবনে হুজর! তুমি যখন নামায পড়বে তখন তোমার হাতদ্বয় কান বরাবর উঠাবে। আর মহিলা তার হাতকে সীনা বরাবর উঠাবে। সূত্র: তাবারানী কাবীর ২২/২০ (২৮) (অবশিষ্ট-২৯)


নামাযে মহিলাদের হাত উড়নার মধ্যে থাকবে


)۲(عن بن مسعودؓ عن النبی ۔ ﷺ ۔ قال : ألمرأۃ عورۃ ... الخ. رواہ الامام الترمذی فی211جامعہ‘‘ برقم (۱۱۷۳) کتاب الرضاع . رقم الباب (۱۸) و قال : ہذا حدیث حسن غریب


অর্থ: হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী ﷺ  ইরশাদ ফরমানঃ মহিলা হলো ছতর। (অর্থাৎ, আবৃত থাকার বস্তু) সূত্র: তিরমিযী শরীফ হাদীস নং (১১৭৩) সহীহ ইবনে খুযাইমা ৩/৯৩ (১৬৮৬) সহীহ ইবনে হিব্বান দ্রষ্টব্য: আল ইহসান হাদীস নং (৫৫৯৮) তাবরানী কাবীর ৯/২০৮ (৮৯১৪) হাদীসটি সহীহ। দ্রষ্টব্য: নসবুর রায়াহ ২৯৮


স্মর্তব্য যে, বর্ণিত হাদীসে যেহেতু মহিলাকে আবৃত থাকার বস্তু বলা হয়েছে কাজেই, তারা নামাযের মধ্যে পুরুষের ন্যায় হাতকে আঁচলের ভিতর থেকে বের করবেনা। তাছাড়া এ বক্তব্য হযরত আ‘তা রহ. এর এক কওল দ্বারাও সমর্থিত হয় । তিনি বলেন: تجمع المرأۃ یدیہا فی قیامہا ما استطاعت


অর্থাৎ: মহিলাগণ দাঁড়ানো অবস্থায় হাতদ্বয়কে সম্ভাব্য জমিয়ে রাখবে। সূত্র: মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ৩/১৩৭ (৫০৬৭) হাদীসটির সনদ সার্বিক বিচারে সহীহ।


মহিলাদের রুকু ও সিজদার নিয়ম


)۳(عن یزید بن أبی حبیبؓ أن رسول اللہ ۔ﷺ۔ مرَّ علی إمرأتین تصلیان فقال : إذا سجدتما فضمّا بعض اللحم الی الأرض‘ فإن المرأۃ لیست فی ذلک کالرجل .

رواہ ألإمام أبوداود فی’’ مراسیلہ ‘‘ برقم )۸۷(


অর্থ: হযরত ইয়াযীদ ইবনে আবী হাবীব রাযি. থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী ﷺ  একদা নামাযরত দুজন মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তখন তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন: তোমরা যখন সিজদা করবে তখন দেহের কিছু অংশকে জমীনের সাথে মিলিয়ে রাখবে। কেননা মেয়েরা এক্ষেত্রে পুরুষের মত নয়। সূত্র: মারাসীলে আবূ দাউদ হাদীস নং (৮৭) (অবশিষ্ট-৩০)

 

মোট কথা মহিলারা সকল রুকন যথাসম্ভব সঙ্কুচিত হয়ে আদায় করবে। হযরত আতা রহ. এর অপর একটি উক্তি থেকেও এ কথাই সমর্থিত হয়। তিনি বলেন:

 

تجمع المرأۃ اذا رکعت. ترفع یدیہا إلی بطنہا ‘ و تجتمع ما استطا عت فإذا سجدت فلتضم یدیہا الیہا وتنضم بطنہا و صدرہا إلی فخذیہا و تجتمع ما استطاعت

رواہ عبد الرزاق فی ’’ مصنفہ ‘‘ ۳/۱۳۷. 


অর্থাৎ, মহিলা যখন রুকু করবে তখন জড়োসড়ো হয়ে থাকবে। হাতদ্বয়কে পেটের সাথে মিলিয়ে নিবে এবং যথা সম্ভব সংকুচিত হয়ে থাকবে আর যখন সিজদা করবে তখন হাতদ্বয়কে দেহের সাথে মিলিয়ে রাখবে। পেট ও সিনাকে রানের সাথে মিলিয়ে রাখবে। এবং সম্ভাব্য সংকুচিত হয়ে থাকবে। সূত্র: মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ৩/১৩৭ (৫০৬৯) হাদীসটির সনদ সহীহ।


অনুরূপভাবে এ প্রসঙ্গে প্রসিদ্ধ তাবেঈ হযরত হাসান বসরী রহ. ও হযরত কাতাদা রহ. ক্বওল লক্ষণীয় তারা বলেন:


إذا سجدت المرأۃ فإنہا تضم ما استطاعت ولا تتجافی لکئ لا ترفع عجیزتہا. 


অর্থাৎ, মহিলা যখন সিজদা করবে তখন যথা সম্ভব সংকুচিত হয়ে থাকবে এবং ছড়িয়ে থাকবে না, যাতে করে তার কোমর উঁচু না হয়ে যায়। সূত্র: মুসান্নাফে আব্দুর রায্‌যাক ৩/১৩৭ (৫০৬৮) হাদীসটির সনদ সহীহ। অনুরূপ ক্বওল হযরত ইবরাহীম নাখঈ রহ. থেকেও বর্ণিত আছে। তা নিম্নরূপঃ


নামাযে মহিলাদের বসার নিয়ম


)۴(عن إبراہیم قال : و تجلس المرأۃ من جانب فی الصلاۃ 

رواہ الامام ابن أبی شیبۃ فی ’’مصنفہ‘‘ ۱/۲۴۳(۲۷۹۲) قلت : ہذا إسناد صحیح .


অর্থ: হযরত ইবরাহীম নাখঈ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মহিলা নামাযের মধ্যে তার এক পার্শ্বে বসবে। সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ১/২৪৩ (২৭৯২) সনদটি সহীহ।


হযরত কাতাদা রহ. থেকে অপর এক রিওয়ায়াতে একথা সুস্পষ্টভাবে রয়েছে যে, মহিলা দুই সিজদার মাঝখানে বাম পার্শ্বের উপর বসবে এবং উভয় পা ডান দিকে বের করে দিবে। সূত্র: মুসান্নাফে আব্দুর রায্‌যাক ৩/১৩৯ (৫০৭৫) সনদটি সহীহ।


আলোচ্য হাদীসসমূহ দ্বারা একথা প্রতীয়মাণ হল যে, পুরুষ ও মহিলাদের নামাযের মধ্যে কোন কোন জায়গায় পার্থক্য রয়েছে। কাজেই যারা একথা বলেন যে, উভয়ের নামায একই, কোন পার্থক্য নেই, তাদের কথা ঠিক নয়। এখানে আমরা শুধু কয়েকটি পার্থক্যের প্রমাণ উল্লেখ করেছি। এছাড়াও আরো পার্থক্য রয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য লেখকের রচিত “নবীজীর (ﷺ ) সুন্নাত” নামক পুস্তিকা দ্রষ্টব্য।


2 comments:

  1. পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য নামাযেও অনুরুপ বিস্তর পার্থক্য।

    ReplyDelete

স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দশটি কর্তব্য

🌙*ইসলামে একজন স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ১০টি দায়িত্ব এবং কর্তব্য* 📗শরীয়তের হুকুম গুলোর মধ্যে বিবাহ অন্যতমো একটি হুকুম। বিবাহ হলো শরীয়ত মোতাবে...