Assalamu Alaikum wa Rahmatullahe wa Barakatuh সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন।
Thursday, May 13, 2021
অন্তরের দশটি ক্ষতিকর রোগ ও তার চিকিৎসা
অন্তরের_১০টি_রোগের_বর্ণনা ও তার চিকিৎসা
▶ভূমিকাঃ◀
✅অন্তরের ১০টি রোগের চিকিৎসা করে অন্তরের ১০টি গুণ হাসিল করার নাম তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি। যা শরী‘আতের দৃষ্টিতে ফরযে আইন এবং এর জন্যে কোন ইজাযত প্রাপ্ত শাইখের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক করাও ফরযে আইন। বাইআত হওয়া ফরয বা ওয়াজিব নয় বরং এটা মুস্তাহাব, এর উপর আত্মশুদ্ধি নির্ভর করে না। আত্মশুদ্ধি অর্জন হলে সমস্ত জাহেরী গুনাহ বর্জন করা এবং জাহেরী ইবাদত-বন্দেগী করা সহজ হয়ে যায় এবং সেই বন্দেগীকে তাকওয়ার যিন্দেগী বা সুন্নতী যিন্দেগী বলে এবং সে ব্যক্তি তথন আল্লাহর ওলী হয় এবং তার হায়াতে তাইয়িবা তথা পবিত্র জীবন নসীব হয়। আল্লাহ তা‘আলা সকলকে এ দৌলত নসীব করেন, আমীন।⏬
✳অন্তরের ১০টি রোগের বর্ণনাঃ✳
✅১. বেশী খাওয়া এবং ভাল খানার প্রতি লোভী হওয়া:
বেশি খাওয়া এবং উদর পূর্তি করে খাওয়া অসংখ্য গুনাহের মূল। এজন্য হাদীসে পাকে ক্ষুধার্ত থাকার অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ “মানুষের জন্য পূর্ণ করার ক্ষেত্রে পেটের থেকে খারাপ কোন পাত্র নেই।” (বুখারী হা: নং ৪৩৪৩)⏬
🍔খানা কম খাওয়ার উপকারসমূহ:🍔
✳১. অন্তরে স্বচ্ছতা সৃষ্টি হয়। ✳২. দিল নরম হয় এবং মুনাজাতে স্বাদ অনুভূত হয়। ✳৩. অবাধ্য নফস অপদস্থ ও পরাজিত হয়। ✳৪. নফসকে শাস্তি দেওয়া হয়। ✳৫. কুপ্রবৃত্তি দুর্বল হয়ে যায়। ✳৬. বেশী নিদ্রা আসে না এবং ইবাদত কষ্টকর হয় না। ✳৭. দুনিয়াবী চিন্তাভাবনা কমে আসে এবং জীবিকা নির্বাহের বোঝা হাল্কা হয়ে যায়।
উল্লেখ্য বর্তমান যামানার লোকেরা পূর্বের তুলনায় অনেক কমজোর হওয়ায় তাদের খানার অর্থ হলো পেট পূর্ণ হতে অবস্থায় খানা শেষ করা⏬
✅২. অধিক কথা বলা:
যবান হল অন্তরের দূত, অন্তরের যাবতীয় নকশা ও কল্পনাকে যবানই প্রকাশ করে। এজন্য যবানের ক্রিয়া বড় মারাত্মক হয়।
☝এজন্যই আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকটা কথাই সংরক্ষণ করা হয়। (সূরা কাফ-১৮)
📚হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছেঃ যে ব্যক্তি নিজের লজ্জাস্থান এবং জিহবাহর ব্যাপারে আমাকে নিশ্চয়তা দিতে পারবে আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিব। (বুখারী হা: নং ৬৪৭৪)⏬
👄কথা বেশী বলার ক্ষতিসমূহ:👄
✴১. মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত হয়ে পড়া। ✴২. গীবতে জড়িয়ে পড়া। ✴৩. অনর্থক ঝগড়া করা। ✴৪. অতিরিক্ত হাসাহাসি করা, যাদ্দরুন দিল মরে যায়। ✴৫. অন্যের অযাচিত প্রশংসা করা।⏬
😷চুপ থাকার উপকারিতা:😷
✳১. মেহনতবিহীন ইবাদত। ✳২. সাম্রাজ্যবিহীন দাপট। ✳৩. দেওয়ালবিহীন দূর্গ। ✳৪. অস্ত্রবিহীন বিজয়। ✳৫. কিরামান কাতবীনের শান্তি। ✳৬. আল্লাহভীরুদের অভ্যাস। ✳৭. হেকমতের গুপ্তধন। ✳৮. মূর্খদের উত্তর। ✳৯. দোষসমূহ আবৃতকারী। ✳১০. গুনাহসমূহ আচ্ছাদনকারী।⏬
✅৩. অহেতুক গুসসা করা:
এটা অত্যন্ত খারাপ একটি আত্মিক ব্যাধি। রাগ দোযখের আগুনের একটি টুকরা এজন্য রাগান্বিত ব্যক্তির চেহারা লাল হয়ে যায়। এর কারণে মারামারি ঝগড়াঝাটি, গালাগালী, এমনকি খুনাখুনী পর্যন্ত সংঘটিত হয়।⏬
🔅এমনকি অনেকে বুদ্ধি বয়সে এসে তুচ্ছ ঘটনায় বিবিকে তিন তালাক দিয়ে পস্তাতে থাকে। মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: ঐ ব্যক্তি বাহাদুর নয় যে যুদ্ধের ময়দানে দুশমনকে নীচে ফেলে দেয় বরং ঐ ব্যক্তি বাহাদুর যে রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম। (বুখারী হাদীস নং ৬১১৪)⏬
😈গুসসার চিকিৎসা:😈
দুইভাবে গুসসার চিকিৎসা করা হয়। ✴১. ইলমী বা জ্ঞানগত পদ্ধতিতে ✴২. আমলী বা কার্যগত পদ্ধতিতে।⏬
📚ইলমী চিকিৎসা হলঃ📚
গুসসার সময় চিন্তা করতে হবে গুসসা কেন আসে? গুসসা আসার কারণ তো এটাই যে, যে কাজটি আল্লাহর ইচ্ছায় হয়েছে সে কাজটি আমার মনের মোতাবেক কেন হয়নি? কেন এটা আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী হল? তার মানে আমি আল্লাহর ইচ্ছাকে আমার ইচ্ছার অনুগত বানাতে চাই? নাউযুবিল্লাহ! এভাবে চিন্তা করলে গুসসার বদ অভ্যাস দূর হয়ে যাবে।⏬
📗আর আমলী চিকিৎসা হলঃ📗
গুসসা আসলে ✳১ (أعُوْذ ُبِاللهِ مِنَ الشيْطَانِ الرَّجِيْمِ) পড়বে, ✳২. নিজ অবস্থা পরিবর্তন করবে। অর্থাৎ, দাঁড়ানো থাকলে বসে পড়বে, বসে থাকলে শুয়ে পড়বে। ✳৩. যার প্রতি গুসসার উদ্রেক হয় তার সামনে থেকে সরে পড়বে। ✳৪. তারপরও গুসসা ঠান্ডা না হলে উযু করবে, নিজ গালকে মাটিতে লাগিয়ে দিবে। এভাবে আমল করলে গুসসা দূর হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।⏬
✅৪. হিংসা করা:
হিংসার সংজ্ঞাঃ কোন ব্যক্তিকে আরাম আয়েশ বা প্রাচুর্যপূর্ণ অবস্থায় দেখে তার সে নেয়ামত দূরীভূত হয়ে নিজের জন্য হাসিল হওয়ার আকাংখা করা। হিংসা অত্যন্ত জঘন্য একটি ব্যাধি।
☝আল্লাহ তা‘আলা হাদীসে কুদসীতে বলেনঃ আমার বান্দার উপর নেয়ামত দেখে হিংসাকারী কেমন যেন আমার ঐ বন্টনের ব্যাপারে অসন্তুষ্ট যা আমি আমার বান্দাদের মধ্যে করেছি। নাউযুবিল্লাহ। (এহয়াউ উলুমুদ্দীন-৩/২৯২)⏬
📚রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ “হিংসা নেকী সমূহকে এমনভাবে জ্বালিয়ে দেয় যেমন আগুন শুকনো লাকড়ীসমূহকে জ্বালিয়ে দেয়”। অবশ্য অন্যের কোন নেয়ামত দেখে সেটা তার মধ্যে বহাল থেকে নিজের জন্য হাসিল হওয়ার আকাংখা করা যাকে “গিবতা” বা “ঈর্ষা” বলে সেটা জায়েয। (আবূ দাউদ হাদীস নং-৪৯০৩)⏬
✅৫. কৃপণতা ও সম্পদের মোহ:
সম্পদের মোহই মূলতঃ কৃপণতার মূল আর সম্পদের মুহব্বাত মানুষকে দুনিয়ার দিকে আকৃষ্ট করে। যে কারণে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি মুহব্বাত দুর্বল হয়ে যায়।
☝এ কারণেই কুরআনে কারীমে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ যার ভাবার্থ হল: আল্লাহর দেয়া সম্পদে কৃপণতাকারীদের জন্য পরকালে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে। (সূরা আলে ইমরান আয়াত ১৮০)⏬
📚হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছেঃ তোমরা লোভকে নিয়ন্ত্রণ কর কারণ এটা তোমাদের পূববর্তী লোকদেরকে ধ্বংস করেছে। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং-২৫৭৮)
বাস্তবিক পক্ষে সম্পদের মোহ মানুষকে আল্লাহ পাক থেকে উদাসীন করে দেয়। এই সম্পদ মুসলমানদের জন্য ভয়াবহ এক ফেতনা।⏬
🔆অবশ্য শুধু সম্পদ কোন নিন্দনীয় ব্যাপার নয়। বিশেষতঃ যদি সে সম্পদ দীনী কাজে ব্যয় করা হয়। নতুবা জরুরত পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোন অসুবিধা নেই, যাতে কারো নিকট ভিক্ষার হাত বাড়াতে না হয়। এবং আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা যায়।⏬
✅৬. খ্যাতি ও পদের মোহ:
খ্যাতি ও পদের মোহ অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটি আত্মিক ব্যাধি। এর দ্বারা অন্তরে নিফাক সৃষ্টি হয়। এজন্য নিজেকে সব সময় লুকিয়ে রাখা চাই, খ্যাতির পিছনে পড়া অনুচিত। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ এই পরকাল আমি তাদের জন্যে নির্ধারিত করি, যারা দুনিয়ার বুকে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে ও অনর্থ সৃষ্টি করতে চায় না। (সূরা কিসাস-৮৩)⏬
📚হাদীসে পাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ “যদি কোন বকরীর পালের মধ্যে দুটি নেকড়ে প্রবেশ করে তাহলেও সেটা এত ক্ষতি করে না যতটা সম্পদ ও পদের মুহাব্বত দীনদার মুসলমানদের দীনের ক্ষতি করে।” (তিরমিযী হা: নং ২৩৮১, মুঃ আহমাদ হাঃ ১৫৭৯০)⏬
❇অবশ্য যদি কামনা-বাসনা ছাড়াই আল্লাহ তা‘আলা কাউকে সুখ্যাতি দান করেন হবে সেটা দোষণীয় নয়। যেমন নবীগণ (সাঃ). সাহাবীগণ (রাযি). তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ীগণ (রহ). তাঁদের প্রত্যেকেরই দুনিয়াতে খ্যাতি ছিল কিন্তু তাঁরা কেউ দুনিয়াতে খ্যাতি কামনা করেননি।⏬
✅৭. দুনিয়াপ্রীতি:
দুনিয়াপ্রীতি শুধু সম্পদ ও পদের মুহব্বাতকেই বলেনা বরং ইহজীবনে যে কোন অবৈধ কামনাকে পূর্ণ করার প্রচেষ্টা ও খাহেশকেই দুনিয়াপ্রীতি বলে। অবশ্য দীনী ইলম, মারিফাতে ইলাহী এবং সৎকর্ম যেগুলোর ফলাফল মৃত্যুর পর পাওয়া যাবে, সেগুলো যদিও দুনিয়াতেই সংঘটিত হয় কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে এসবের মুহব্বাতকে দুনিয়ার মুহব্বাত বলে না বরং এগুলো হলো আখেরাতের মুহব্বাত।
দুনিয়ার জীবনের নিন্দাবাদ করে মহান আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন “দুনিয়ার জীবনের সবকিছুই ধোঁকার সামান।” (সূরা আল ইমরান, আয়াত- ১৮৫)⏬
☝অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে যে, “দুনিয়ার সামানপত্র, রং তামাশা ও খেলাধুলা ছাড়া আর কিছুই নয়।” (সূরায়ে হাদীদ, আয়াত-২০)⏬
📚রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ দুনিয়া হল একটি মরা জন্তু যারা এটাকে লক্ষবস্তু বানিয়েছে তারা হল কুকুরের দল। দুনিয়ার ভোগ বিলাসকে উদ্দেশ্য না করে দুনিয়াকে আখেরাতের প্রস্তুতির হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তাহলে কামিয়াব হওয়া যাবে।⏬
✅৮. অহংকার করা:
তাকাব্বুর বা অহংকার এর অর্থ হলঃ প্রশংসনীয় গুণাবলীর মধ্যে নিজেকে অন্যের তুলনায় শ্রেষ্ঠ মনে করা এবং অন্যকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা, হক ও সত্যকে অস্বীকার করা। বলা বাহুল্য যে, যখন মানুষ নিজের ব্যাপারে এরূপ ধারণা পোষণ করে এবং আল্লাহর দেয়া গুণসমূহকে নিজের কৃতিত্ব মনে করে তখন তার নফস ফুলে উঠে, অতঃপর কাজকর্মে এর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেতে থাকে, উদাহরণস্বরূপ: রাস্তায় চলার সময় সাথীদের আগে আগে চলা, মজলিসে সদরের মাকামে বা সম্মানিত স্থানে বসা। অন্যদেরকে তাচ্ছিল্যের সাথে দেখা বা আচরণ করা অথবা কেউ আগে সালাম না দিলে তার উপর গুসসা হওয়া, কেউ সম্মান না করলে তার উপর অসন্তুষ্ট হওয়া, কেউ সঠিক উপদেশ দিলেও নিজের মর্জির খেলাফ হওয়ায় সেটাকে অবজ্ঞা করা। হক কথা জানা সত্ত্বেও সেটাকে না মানা। সাধারণ মানুষকে এমন দৃষ্টিতে দেখা যেমন গাধাকে দেখা হয় ইত্যাদি।⏬
📚পবিত্র কুরআন ও হাদীসের অনেক আয়াতে ‘অহংকার’ এর নিন্দাবাদ করা হয়েছে, অহংকারের কারণেই ইবলীস বেহেশত থেকে বিতাড়িত হয়েছে। অহংকারের কারণেই আবূ জাহাল মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সত্য জেনেও অস্বীকার করেছে।⏬
✅৯. আত্মতুষ্টি:
আত্মতুষ্টি বা নিজেকে নিজে সঠিক মনে করা মূলত: এটা অহংকারেরই ভূমিকা বা প্রাথমিক রূপ। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, অহংকারের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় নিজের নফসকে বড় মনে করা হয় আর আত্মতুষ্টির মধ্যে অন্যদের সাথে তুলনা করা ছাড়াই স্বীয় নফসকে নিজ খেয়ালে কামেল মনে করা হয়। এবং আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতসমূহকে নিজের হক মনে করা হয়, অর্থাৎ, এটাকে আল্লাহর দান ও অনুগ্রহ মনে করা হয় না এবং সেটা যে কোন মুহূর্তে ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে সে ব্যাপারে শংকাহীন হয়ে পড়া। এটাকেই তাসাওউফের পরিভাষায় “উজুব” বা “খোদপছন্দী” বলে। এটার চিকিৎসা করা না হলে এটাই কিছু দিন পরে অহংকারে পরিণত হয়ে বান্দাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়।⏬
✅১০. লোক দেখানো (রিয়া বা প্রদর্শনী):
রিয়া বলা হয় নিজ ইবাদত ও ভাল আমলের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে বড়ত্ব ও মর্যাদার আকাংখা করা।
✳এটা ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত ব্যাপার। কেননা ইবাদতের দ্বারা মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। এখন যেহেতু এই আমলের উদ্দেশ্যের মধ্যে অন্য শরীকও চলে এসেছে, বিধায় একে “শিরিকে আসগার” বা ছোট শিরক বলা হয়।⏬
☝কুরআনে কারীমে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ মানুষকে শুধুমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইবাদত করার হুকুম করা হয়েছে। (সূরায়ে বায়্যিনাহ আয়াত-৫)⏬
📚হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছেঃ “কিয়ামতের দিন সব`প্রথম যে তিন শ্রেণীর ব্যক্তিকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে তারা সবাই হবে রিয়াকার।” তারা সারা জীবন দীনের পথে থেকেও অন্তরের একটি রোগের কারণে সকলের পূর্বে জাহান্নামে যাবে। রিয়াকে “শিরকে খফী” বা গোপন শিরকও বলা হয়।⏬
👪রিয়ার সূরতসমূহঃ👪
মোট ছয় ভাবে রিয়া হতে পারে। ✴১। শরীরের দ্বারা ✴২। অঙ্গভঙ্গির দ্বারা ✴৩। আকৃতি অবলম্বনের দ্বারা ✴৪। কথাবার্তার দ্বারা ✴৫। আমলের দ্বারা ✴৬। নিজ মুরীদ ও ভক্তের আধিক্য ও নিজের ইবাদত বন্দেগীর বর্ণনার দ্বারা।*🔚
Saturday, May 8, 2021
কুরআন তিলাওয়াত শোনার উপকারিতা
📗কুরআনের তিলাওয়াত শোনার ৮টি অনবদ্য উপকারিতা📗*👇⬇👇 🌹🆗🌹
▬▬▬ ◈❥◈▬▬▬
📗আল কুরআন মহান আল্লাহর মর্যাদাপূর্ণ বাণী সমষ্টির এক অবিস্মরণীয় ও বিস্ময়কর গ্রন্থ। এটি এমন এক গ্রন্থ তা পাঠ করলে প্রতিটি অক্ষরে একটি করে সওয়াব লেখা হয় যা দশটির সমান। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لاَ أَقُولُ الم حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلاَمٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ
“যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করবে তার একটি সওয়াব হবে। আর একটি সওয়াব দশটি সওয়াবের অনুরূপ। আমি বলি না যে, “আলিফ-লাম-মীম” একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম আরেকটি হরফ। (অর্থাৎ তিনটি হরফে রয়েছে তিনটি সওয়াব যা ত্রিশটি সওয়াবের সমান)।” [সুনান তিরমিজী, হা/২৯১০, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পড়বে তার সাওয়াব কী হবে? অধ্যায়: ৪৮/ কুরআনের ফযিলত -সনদ সহিহ]⏬
❇সুতরাং যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করবে সে উক্ত সওয়াব লাভ করবে ইনশাআল্লাহ- চাই বুঝে পড়ুক অথবা না বুঝে পড়ুক, দেখে পড়ুক অথবা মুখস্থ পড়ুক, মুসহাফ দেখে পড়ুক অথবা মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি ডিভাইস থেকে পড়ুক, নামাজের মধ্যে পড়ুক অথবা নামাজের বাইরে পড়ুক। অনুরূপভাবে তিলাওয়াত শোনাতেও রয়েছে বিশাল সওয়াব, অসীম কল্যাণ ও অতুলনীয় উপকারিতা।⏬
📗নিম্নে কুরআন শ্রবণের ৮টি অনবদ্য উপকারিতা তুলে ধরা হলো:📗
✳● ১. আল্লাহর রহমত ও অনুকম্পা লাভ।
✴● ২. হেদায়েত (সঠিক পথের নির্দেশনা) লাভ।
✳● ৩. ঈমান বৃদ্ধি।
✴● ৪. সত্যকে চেনার উপলব্ধি সৃষ্টি।
✳● ৫. জ্ঞানার্জন।
✴● ৬. আল্লাহর সহজ ইবাদত।
✳● ৭. কুরআন তিলাওয়াত শোনা সুন্নত।
✴● ৮. মনে অনাবিল প্রশান্তি ও স্বস্তি লাভ।⏬
📗নিম্নে কুরআন তিলাওয়াত শোনার মর্যাদা ও উপকারিতার বিষয়গুলো সংক্ষেপে দলিল সহ উপস্থাপন করা হলো:⏬
✅১. আল্লাহর রহমত ও অনুকম্পা লাভ:
📗মনোযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শুনলে আল্লাহর রহমত ও অনুকম্পা লাভ হয়। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
“আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করো এবং নীরবতা অবলম্বন করো যাতে তোমরা রহমত (দয়া) প্রাপ্ত হও।" (সূরা আরাফ: ২০৪)⏬
📘তাফসিরে ত্ববারীতে এসেছে: আবু জাফর বলেন: “তোমরা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করো” এ কথার অর্থ হলো:
أصغوا له سمعكم، لتتفهموا آياته، وتعتبروا بمواعظه
“তোমরা কান লাগিয়ে শোনো যেনো আয়াতের অর্থ বুঝতে পারো এবং উপদেশ বার্তাগুলো থেকে উপদেশ গ্রহণ করো।” (তাফসিরে ত্ববারী)⏬
📚ইবনে কাসির (রাহ.) বলেন:
أمر تعالى بالإنصات عند تلاوته إعظاما له واحتراما
“আল্লাহ তাআলা কুরআন তিলাওয়াতের সময় নীরবতা অবলম্বন করার আদেশ করেছেন তার প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনার্থে।” (তাফসিরে ইবনে কাসির)⏬
✅২. হেদায়েত (সঠিক পথের নির্দেশনা) লাভ:
📗মনোযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শোনার পাশাপাশি তার অনুসরণ করলে আল্লাহ তাআলা হেদায়েত (সুপথ) দেখান। যেমন: তিনি বলেন,
الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ ۚ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّـهُ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ
“যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সুপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।" (সূরা যুমার: ১৮)⏬
☝আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا- يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ ۖ
“জিনদের একটি দল কুরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছে: আমরা বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি; যা সুপথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি।” (সূরা জিন: ১ -২)⏬
☝তিনি আরও বলেন,
وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنصِتُوا ۖ فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَىٰ قَوْمِهِم مُّنذِرِينَ - قَالُوا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَابًا أُنزِلَ مِن بَعْدِ مُوسَىٰ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَىٰ طَرِيقٍ مُّسْتَقِيمٍ
“যখন আমি একদল জিনকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম, তারা মনোযোগ সহকারে কুরআন পাঠ শুনছিলো। তারা যখন কুরআন পাঠের জায়গায় উপস্থিত হলো, তখন পরস্পর বললো, চুপ থাকো। অতঃপর যখন পাঠ সমাপ্ত হলো, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ক কারী রূপে ফিরে গেলো।” (সূরা আহকাফ: ২৯ ও ৩০)⏬
❇সুতরাং যে ব্যক্তি মনোযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শুনবে তার জীবন আল্লাহ দয়া ও অনুকম্পায় সিক্ত হওয়ার পাশাপাশি লাভ করবে হেদায়েত তথা সঠিক দিকনির্দেশনা। সে কুরআনে মধ্যে খুঁজে পাবে তার ব্যক্তিগতো জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, নানা প্রশ্নের উত্তর, চরিত্রিক উন্নয়ন, মানসিক প্রশান্তি ও আনন্দ মুখোর জীবনের রূপরেখা, পারিবারিক সুখ, সামাজিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা, আত্মিক পরিশুদ্ধতা, রাষ্ট্রীয় অবোকাঠামোগতো উন্নয়ন, সভ্যতা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সর্বোত্তম নীতি এবং সর্বোপরি আল্লাহর ইবাদতে সুগভীর পরিতৃপ্তি।⏬
👪তবে আমাদের ভাষা যেহেতু আরবি নয় সেহেতু কুরআন থেকে যথার্থভাবে হিদায়েত ও ফায়দা অর্জন করতে চাইলে তরজমা ও তাফসির সহ শোনার চেষ্টা করা উচিৎ।⏬
✅৩. ঈমান বৃদ্ধি:
📗তিলাওয়াত শ্রবণ করার মাধ্যমে অন্তরে ঈমান বৃদ্ধি পায়। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا
“আর যখন তাদের সামনে (কুরআন) তিলাওয়াত করা হয় হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়।” (সূরা আনফাল: ২)⏬
✅৪. সত্যকে চেনার উপলব্ধি সৃষ্টি:
📗গভীর মনোযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করার পাশাপাশি তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করার ফলে অন্তরে আল্লাহ ভীতি সৃষ্টি হয় এবং সত্য উপলব্ধির অন্তর চক্ষু উন্মোচিত হয়। ফলে এই উপলব্ধি থেকে দুচোখ বেয়ে অশ্রু বিগোলিতো হয়। যেমন: আল্লাহ তা'আলা সাহাবীদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে গিয়ে বলেন,
وَإِذَا سَمِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَىٰ أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوا مِنَ الْحَقِّ
“আর তারা রসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা যখন শুনে তখন আপনি তাদের চোখ অশ্রু সজল দেখতে পাবেন; এ কারণে যে, তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে।” (সূরা মায়িদা: ৮৩)⏬
✅৫. জ্ঞানার্জন:
📗যে কোনো বিষয়ে জ্ঞানার্জনের চাবিকাঠি হলো, মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা (রহ.) বলেন:
أوّل العلم الاستماع، ثم الفهم، ثم الحفظ، ثم العمل ثم النشر]فإذا استمع العبد إلى كتاب الله تعالى وسنّة نبيه ﷺ بنيّة صادقة على ما يحب الله؛ أفهمه كما يحب، وجعل له في قلبه نوراً ].
تفسير القرطبي ١٧٦/١١.
“জ্ঞানের প্রথম ধাপ হলো, মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা। তারপর বুঝা, তারপর মুখস্থ করা, তারপর কর্মে বাস্তবায়ন করা, তারপর প্রচার ও প্রসার করা। সুতরাং বান্দা যখন আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের আল্লাহর পছন্দ মতো সৎ নিয়তে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করে আল্লাহ তাকে তা বোঝার ক্ষমতা দান করেন যেভাবে তিনি পছন্দ করেন এবং তার অন্তরে আলো ঢেলে দেন।” (তাফসিরে কুরতুবী ১১/১৭৬)⏬
❇সুতরাং মনোযোগ দিয়ে শুনার মাধ্যমে হ্রদয়ে অনেক অজানা তথ্যের উন্মেষ ঘটে, জ্ঞান-বুদ্ধি ও বোধশক্তির উন্নতি সাধিত হয় এবং বিচক্ষণতা বৃদ্ধি পায়। এভাবে মানুষ নানাভাবে উপকৃত হয়। তাই তো আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَذِكْرَىٰ لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ
“এতে (কুরআনে) উপদেশ রয়েছে তার জন্যে, যার অনুধাবন করার মতো অন্তর রয়েছে অথবা যে নিবিষ্ট মনে শ্রবণ করে।” (সূরা ক্বাফ: ৩৭)⏬
✅৬. সহজ ইবাদত:
📗কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করা একটা ইবাদত। কারণ তিনি আমাদেরকে কুরআন শোনার নির্দেশ দিয়েছেন। (যেমনটি উপরোক্ত কুরআনের আয়াত ও হাদিস সমূহ)। সুতরাং শুনার মাধ্যমেও আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যায় এবং অর্জিত হয় অবারিতো সওয়াব।
(যদিও তিলাওয়াত শুনলে তিলাওয়াত করার সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবে কি না সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো হাদিস পাওয়া যায় না।)⏬
⭕আর এটি এতো সহজ ইবাদত যে, আমরা বাড়িতে, গাড়িতে, অফিসে, দোকানে, রাস্তায় চলতে চলতে, দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে যে কোনো অবস্থায় খুব সহজে তা করতে পারি। বর্তমানে আধুনিক টেকনোলোজি, অডিও, মেমরি আর স্মার্ট ফোনের যুগে তা আরও সহজ হয়ে গেছে আলহামদুলিল্লাহ।⏬
✅৭. কুরআন তিলাওয়াত শোনা সুন্নত:
হাদিসে এসেছে:
عن عبدالله بن مسعود قال: "قال لي رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم - وهو على المنبر: ((اقرأْ عليّ))، قلتُ: أَقْرَأُ عليك وعليك أُنْزل؟ قال: ((إني أحبُّ أنْ أسمعَه من غيري))، فقرأتُ سورة النساء، حتى أتيتُ إلى هذه الآية: ﴿ فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا ﴾ [النساء: 41].
قال: ((حَسْبُك الآن))، فالْتَفَتُّ إليه، فإذا عيناه تذرفان؛ متفق عليه
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, “আমাকে তুমি তিলাওয়াত করে শুনাও।”
👪আমি বললাম: আমি আপনাকে তিলাওয়াত শোনাবো অথচ আপনার ওপরই এটি অবতীর্ণ হয়েছে?
তিনি বললেন: “আমি অন্যের তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করি।” অতঃপর আমি তাঁকে সূরা নিসা পড়ে শুনাতে লাগলাম। যখন আমি فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا “অতএব কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবো এবং তোমাকে উপস্থিত করবো তাদের উপর সাক্ষী রূপে? ”(সূরা নিসা: ৪১) পর্যন্ত পৌঁছলাম তিনি বললেন: “ব্যস, যথেষ্ট হয়েছে।”
তখন আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম তাঁর চোখ থেকে অঝোর ধারায় অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে।” [সহিহ বুখারী : ৫০৫০ ও মুসলিম : ১৯০৩]⏬
✅৮. মনে অনাবিল প্রশান্তি ও স্বস্তি লাভ:
📗কুরআন নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা, পরস্পরে অধ্যয়ন, তিলাওয়াত করা ও শুনা ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহর দয়ায় সিক্ত হওয়ার পাশাপাশি হৃদয়ে নেমে আসে অনাবিল প্রশান্তি ও অভূতপূর্ব স্বস্তির সুবাতাস। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ تَعَالَى يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ إِلاَّ نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَحَفَّتْهُمُ الْمَلاَئِكَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ
আবু হুরায়রা (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: “যখন কিছু লোক আল্লাহর কোনো এক ঘরে একত্রিত হয়ে কুরআন পাঠ করে এবং একে অপরের সাথে কুরআন নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা ও অধ্যয়ন করে তখন তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হয়, আল্লাহর রহমত তাদেরকে আচ্ছাদিতো করে, ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাআলা ঐ সমস্ত বান্দাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের সামনে উল্লেখ করেন।” [সুনানে আবু দাউদ, হা/১৪৫৫ অধ্যায়ঃ ২/ সালাত, পরিচ্ছদ: ৩৫৫. কুরআন তিলাওয়াতের সাওয়াব সম্পর্কে (ইফা)]⏬
❇মোটকথা, কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণের মধ্যে সওয়াব অর্জনের পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন দিক দিয়ে উপকার লাভ করতে পারি। শোনার মাধ্যম যাই হোক না কেনো। কেউ যদি ক্বারি সাহেবের সরাসরি তিলাওয়াত শুনে অথবা তার ধারণকৃতো তিলাওয়াত ইউটিউব, মোবাইল মেমরী, সিডি, ল্যাপটপ ইত্যাদিতে থেকে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে তাহলে আল্লাহর সর্ববৃহৎ নিয়ামত হিদায়েত বা সুপথ প্রাপ্তি এবং তাঁর অসীম দয়া ও অনুকম্পার শীতল বারি বর্ষণে জীবন হয়ে উঠবে ফুল-ফলে সুশোভিত ও সঞ্জীবিত। মনের মধ্যে অর্জিত হবে অনাবিল জান্নাতি সুখ ও প্রশান্তি এবং দূর হবে সকল অন্ধকার, হতাশা, অস্থিরতা, কষ্ট এবং দু:শ্চিন্তা।
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﺟْﻌَﻞِ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﺭَﺑِﻴﻊَ ﻗَﻠْﺒِﻲ ﻭَﻧُﻮﺭَ ﺻَﺪْﺭِﻱْ ﻭَﺟِﻼَﺀَ ﺣُﺰْﻧِﻲْ ﻭَﺫَﻫَﺎﺏَ ﻫَﻤِّﻲْ
“হে আল্লাহ, কুরআনকে তুমি আমার হৃদয়ের প্রশান্তি, আমার বক্ষের জ্যোতি, আমার চিন্তা-ভাবনার অপসারণকারী এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিদূরীত কারীতে পরিণতো করো।” আমিন।🔚
Subscribe to:
Posts (Atom)
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দশটি কর্তব্য
🌙*ইসলামে একজন স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ১০টি দায়িত্ব এবং কর্তব্য* 📗শরীয়তের হুকুম গুলোর মধ্যে বিবাহ অন্যতমো একটি হুকুম। বিবাহ হলো শরীয়ত মোতাবে...
-
القرآن کل آیات 6666 کل سورتیں 114 کل الفاظ 86430 کل حروف 322671 کل زبر 53243 کل زیر 39582 کل پیش 8804 کل رکوع 540 کل نقطے 105682 ک...