Abdur Rahim Qasemi
Assalamu Alaikum wa Rahmatullahe wa Barakatuh সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন।
Monday, July 12, 2021
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দশটি কর্তব্য
🌙*ইসলামে একজন স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ১০টি দায়িত্ব এবং কর্তব্য*
📗শরীয়তের হুকুম গুলোর মধ্যে বিবাহ অন্যতমো একটি হুকুম। বিবাহ হলো শরীয়ত মোতাবেক দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী এবং পুরুষের মধ্যে বৈধ সম্পর্ক আর এর মাধ্যমেই স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে তৈরি হয় বৈধ বন্ধন। পৃথিবীতে স্বামী এবং স্ত্রীর বন্ধন শ্রেষ্ঠ বন্ধন আর এই বন্ধন অটুট রাখতে প্রত্যেকের বেশ কিছু দায়িত্ব রয়েছে।⏬
💑স্বামী-স্ত্রীর ভালো সম্পর্ক একটি সুন্দর পরিবার গড়ে তোলে আর একটি সুন্দর পরিবার একটি সুন্দর সমাজ গঠনের মূল নিয়ামক হিসাবে কাজ করে।
☪️এই কারণে ইসলাম প্রত্যেকের মাঝে ভালোবাসা তৈরির জন্য বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য দিয়েছে। ইসলাম প্রত্যেক স্বামীর দায়িত্ব কি হবে, তা খুব সুন্দর ভাবেই বলে দিয়েছে আর ইসলামের এসব হুকুম-আহকাম সমূহ যদি নারী-পুরুষ উভয় অনুসরণ করে, তবে ইনশা আল্লাহ একটি সুখী পরিবার তৈরি হবে।⬇️
📗কুরআন এবং হাদিস থেকে আমি বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য তুলে ধরেছি। সবগুলো বিষয় এই ছোটো লেখায় তুলে ধরা সম্ভব নয় তাই সামান্য কিছু তুলে ধরেছি।
👩❤️👨*স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব*👩❤️👨
✅*১.* স্ত্রীর ভরণ পোষণ করা প্রত্যেক স্বামীর দায়িত্ব তার স্ত্রীর ভরণ পোষণ করা। স্ত্রীর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, আরামদায়ক বাসস্থান, উপযুক্ত পোশাক এবং অনান্য সুযোগ সুবিধার ব্যাবস্থা করা। সর্বোপরি একজন স্বামীর দায়িত্ব হলো, স্ত্রীর দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করা। হাকীম ইবনু মু’আবিয়াহ আল-কুশাইরী (রহঃ) হতে তার পিতা থেকে বর্ণিতোঃ
❇️তিনি বলেন, একদা আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো উপর তার স্ত্রীর কি হক রয়েছে? তিনি বললেনঃ “তুমি যখন আহার করবে তাকেও আহার করাবে। তুমি পোশাক পরিধান করলে তাকেও পোশাক দিবে। তার মুখমণ্ডলে মারবে না, তাকে গালমন্দ করবে না এবং পৃথক রাখতে হলে ঘরের মধ্যেই রাখবে। (আবু দাউদ : ২১৪২)
🙋♀️স্ত্রীর চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে অবশ্যই হালাল চাহিদা পূরণ করতে হবে। আর স্বামীর মৌলিক দায়িত্ব হলো হালাল পথে উপার্জন করা।
✅*২.* শারীরিক চাহিদা পূরণ মানুষের সামাজিক চাহিদার পাশাপাশি রয়েছে জৈবিক চাহিদা। অপরদিকে বিবাহ হলো এই জৈবিক চাহিদা পূরণের হালাল মাধ্যম। তাই স্বামীর অন্যতমো দায়িত্ব হলো স্ত্রীর যৌন চাহিদা পূর্ণ করা। পবিত্র কুরআনে এসেছে,
👩❤️👨তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যাবহার করো। আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যাবস্থা করো এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাকো। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও। (বাকারা : ২২৩)⬇️
☪️ইসলামে স্ত্রীর এই চাহিদাকে অনেক বেশী গুরুত্ব প্রদান করেছে। হযরত উমর (রাঃ) আদেশ প্রদান করে দেন, কোনো বিবাহিতো পুরুষ তার স্ত্রীর নিকট থেকে ৪ মাসের বেশী আলাদা বা দূরে থাকতে পারবে না।⬇️
✅*৩.* স্ত্রীর কথায় মর্যাদা দেওয়া একজন স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীর কথাকে মর্যাদা দেওয়া। পারিবারিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। স্ত্রীর যেকোনো দাবিকে মূল্যায়ন করতে হবে। স্বামীকে মনে রাখতে হবে তার স্ত্রী হলো তার অর্ধাংশ। তাই স্ত্রী যেকোনো বিষয়ে মতামত প্রদান করার অধিকার রাখে।⬇️
✅*৪.* স্ত্রীর পিতা-মাতাকে সম্মান করা স্ত্রীর পিতা-মাতা তথা শ্বশুর শাশুড়িকে সম্মান করতে হবে। সেই সাথে স্ত্রীর পরিবারের অনান্য সদস্যের সাথেও সুন্দর সম্পর্ক রাখতে হবে। স্বামীর এমন কোনো ব্যাবহার বা আচরণ করা উচিত নয় যার দ্বারা স্ত্রীর পরিবারের কেউ কষ্ট পায়। পরিবারের কষ্ট তার স্ত্রীর অন্তরেও আঘাত করে। স্বামী যখন তার স্ত্রীর পরিবারের সাথে ভালো ব্যাবহার করবে তখন স্ত্রীও স্বামীর পরিবারের সাথে ভালো ব্যাবহারের উৎসাহ পাবে।⬇️
📚আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতোঃ_রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মুমিনদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই পরিপূর্ণ ঈমানদার যিনি তাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা চরিত্রবান। তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি- যে তার স্ত্রীর কাছে সবচেয়ে ভালো।
(তিরমিযী -১/২১৭-১৮; আহমাদ-২/২৫০, ৪৭২; আবূ দাঊদ হা. ৪৬৮২; মুসান্নাফে আবী শায়বাহ ১২/১৮৫/১; আবূ নাঈম তাঁর ‘আল-হিলইয়া’ –এর ৯/২৪৮; হাকিম-১/৩)⬇️
✅*৫.* স্ত্রীকে আঘাত কিংবা মারধর করা যাবে না
এটা একদম প্রাথমিক বিষয় যে একজন স্বামী তার স্ত্রীকে মারধর করবে না। কেনোনা একজন স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীর যত্ন এবং নিরাপত্তা রক্ষা করা। একজন রক্ষক কখনোই ভক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে পারে না।
❇️মনে রাখতে হবে মেয়েটির পিতা-মাতা তার হাতে তুলে দিয়েছে মেয়েটির জীবনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য, শোষণের জন্য নয়। একজন স্বামীর উচিত তার স্ত্রীর একজন ভালো বন্ধু হওয়া। পরস্পরের মধ্যে যদি কখনো বাত বিতণ্ডা হয় তবে উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আর কখনো স্ত্রীর মুখে আঘাত করা যাবে না।⬇️
📚আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতোঃ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনও তাঁর কোনো খাদেমকে অথবা তাঁর কোনো স্ত্রীকে মারপিট করেননি এবং নিজো হাতে অপর কাউকেও প্রহার করেননি। (সহীহুল বুখারী ৩৫৬০, ৬১২৬, ৬৭৮৬, ৬৮৫৩, মুসলিম ২৩২৮, আবূ দাউদ ৪৭৮৫, ৪৭৮৬, আহমাদ ২৩৫১৪, ২৪৩০৯, ২৪৪৬৪, ২৫৪২৫, ২৭৬৫৮, মুয়াত্তা মালেক ১৬৭১, দারেমী ২২১৮, গয়াতুল মারাম ২৫২, মুখতাসার শামাইল ২৯৯।)⬇️
✅*৬.* ধর্মীয় বিধি-বিধান পালনে উৎসাহ প্রদান
স্বামী দ্বীনদার হলে স্ত্রীকে দ্বীন পালনে উৎসাহ প্রদান করতে হবে। স্ত্রীর ইসলামের জ্ঞান না থাকলে তাকে অবশ্যই ইসলামী জ্ঞান প্রদান করতে হবে। স্ত্রী যাতে প্রতিদিনের ইসলামী হুকুম পালন করতে পারে, এজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। সে যাতে নামায পরে এজন্য চাপ প্রয়োগ করতে হবে।
🌻এমন কিছু তার উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না যা তার ইসলাম পালনে বাঁধা তৈরি করে। তার পর্দার বিধান নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না। তার বসোবাসের পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বামীর দায়িত্ব।⬇️
✅*৭.* স্ত্রীর গোপন কিছু অন্যের কাছে প্রকাশ করা যাবে না স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে যখন কোনো বিষয় সংঘটিতো হয়, তা কখনোই অন্যের কাছে প্রকাশ করা যাবে না। প্রত্যেক স্বামী এবং স্ত্রীর দায়িত্ব হলো তাদের গোপন কথা গোপন রাখা।⬇️
✅*৮.* কৃতোজ্ঞতা এবং প্রশংসা করা স্বামীর উচিত স্ত্রীর প্রতিটি ভালো কাজে উৎসাহ প্রদান করা। স্ত্রী যদি স্বামী কে কোনো উপহার প্রদান করে তবে অবশ্যই স্বামীর উচিত তা গ্রহণ করা। এছাড়া স্বামীর উচিত স্ত্রীকে উপহার প্রদান করা। স্ত্রীর বেশ কিছু কাজ যেমন:⬇️
🧕*স্ত্রীর রান্নার প্রশংসা করা*
*সৌন্দর্যের প্রশংসা করা*
*শিশু-লালন পালনের প্রশংসা করা *তার কষ্টের জন্য কৃতেজ্ঞতা প্রকাশ করা*
*সবচেয়ে বড়ো কথা হলো, স্বামীর সামান্য একটু প্রশংসা স্ত্রীকে অনেক বেশী খুশি রাখে।*⬇️
✅*৯.* স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া বা সময় ব্যয় করা
স্ত্রীকে সার্বক্ষনিক চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি রাখা যাবে না। এতে করে স্ত্রীর মন মেজাজ খারাপ হয়ে যেতে পারে। তাকে নিয়ে বাহিরে ঘুরতে যাওয়া কিংবা তার আত্মীয় স্বজনের বাসায় গমন করা যেতে পারে। এতে করে তার মধ্যে সতেজতা আসবে।⬇️
✅*১০.* হাসি মুখে কথা বলা
স্ত্রীর সাথে হাসি মুখে কথা বলাটাও একটা ইবাদত। তার সাথে হাসি ঠাট্টা করা যেতে পারে। আনন্দ-ফুর্তি কিংবা শরীয়ত মোতাবেক যেকোনো বিনোদন বা খেলাধুলাও করা যেতে পারে।⬇️
📚আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতোঃ_তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হলে তাঁকে অতিক্রম করে যাই।
(আবূ দাউদ ২৫৭৮, আহমাদ ২৩৫৯৮, ২৪৪৬০, ২৫৭২০, ২৫৭৪৫. ২৫৮৬৬, ইরওয়াহ ১৫০২, সহীহাহ ১৩১, আদাবুয যিফাফ ১৭১।)⬇️
✴️উক্ত হাদিসে দেখা যায় স্বয়ং রাসূল (সাঃ) তাঁর স্ত্রীর সাথে খেলাধুলা করতেন।
✍️*শেষ কথা* স্বামী এবং স্ত্রী কখনোই একজন আরেক জনের প্রতিদন্ধি নয়। যদিও পশ্চিমা সমাজ ব্যাবস্থায়, স্বামী এবং স্ত্রী একজনকে আরেক জনের প্রতিদন্ধি হিসাবে দেখানো হয়। মনে রাখতে হবে, ইসলামে স্বামী এবং স্ত্রী হলো একজন আরেক জনের সহযোগী
Thursday, May 13, 2021
অন্তরের দশটি ক্ষতিকর রোগ ও তার চিকিৎসা
অন্তরের_১০টি_রোগের_বর্ণনা ও তার চিকিৎসা
▶ভূমিকাঃ◀
✅অন্তরের ১০টি রোগের চিকিৎসা করে অন্তরের ১০টি গুণ হাসিল করার নাম তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি। যা শরী‘আতের দৃষ্টিতে ফরযে আইন এবং এর জন্যে কোন ইজাযত প্রাপ্ত শাইখের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক করাও ফরযে আইন। বাইআত হওয়া ফরয বা ওয়াজিব নয় বরং এটা মুস্তাহাব, এর উপর আত্মশুদ্ধি নির্ভর করে না। আত্মশুদ্ধি অর্জন হলে সমস্ত জাহেরী গুনাহ বর্জন করা এবং জাহেরী ইবাদত-বন্দেগী করা সহজ হয়ে যায় এবং সেই বন্দেগীকে তাকওয়ার যিন্দেগী বা সুন্নতী যিন্দেগী বলে এবং সে ব্যক্তি তথন আল্লাহর ওলী হয় এবং তার হায়াতে তাইয়িবা তথা পবিত্র জীবন নসীব হয়। আল্লাহ তা‘আলা সকলকে এ দৌলত নসীব করেন, আমীন।⏬
✳অন্তরের ১০টি রোগের বর্ণনাঃ✳
✅১. বেশী খাওয়া এবং ভাল খানার প্রতি লোভী হওয়া:
বেশি খাওয়া এবং উদর পূর্তি করে খাওয়া অসংখ্য গুনাহের মূল। এজন্য হাদীসে পাকে ক্ষুধার্ত থাকার অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ “মানুষের জন্য পূর্ণ করার ক্ষেত্রে পেটের থেকে খারাপ কোন পাত্র নেই।” (বুখারী হা: নং ৪৩৪৩)⏬
🍔খানা কম খাওয়ার উপকারসমূহ:🍔
✳১. অন্তরে স্বচ্ছতা সৃষ্টি হয়। ✳২. দিল নরম হয় এবং মুনাজাতে স্বাদ অনুভূত হয়। ✳৩. অবাধ্য নফস অপদস্থ ও পরাজিত হয়। ✳৪. নফসকে শাস্তি দেওয়া হয়। ✳৫. কুপ্রবৃত্তি দুর্বল হয়ে যায়। ✳৬. বেশী নিদ্রা আসে না এবং ইবাদত কষ্টকর হয় না। ✳৭. দুনিয়াবী চিন্তাভাবনা কমে আসে এবং জীবিকা নির্বাহের বোঝা হাল্কা হয়ে যায়।
উল্লেখ্য বর্তমান যামানার লোকেরা পূর্বের তুলনায় অনেক কমজোর হওয়ায় তাদের খানার অর্থ হলো পেট পূর্ণ হতে অবস্থায় খানা শেষ করা⏬
✅২. অধিক কথা বলা:
যবান হল অন্তরের দূত, অন্তরের যাবতীয় নকশা ও কল্পনাকে যবানই প্রকাশ করে। এজন্য যবানের ক্রিয়া বড় মারাত্মক হয়।
☝এজন্যই আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকটা কথাই সংরক্ষণ করা হয়। (সূরা কাফ-১৮)
📚হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছেঃ যে ব্যক্তি নিজের লজ্জাস্থান এবং জিহবাহর ব্যাপারে আমাকে নিশ্চয়তা দিতে পারবে আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিব। (বুখারী হা: নং ৬৪৭৪)⏬
👄কথা বেশী বলার ক্ষতিসমূহ:👄
✴১. মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত হয়ে পড়া। ✴২. গীবতে জড়িয়ে পড়া। ✴৩. অনর্থক ঝগড়া করা। ✴৪. অতিরিক্ত হাসাহাসি করা, যাদ্দরুন দিল মরে যায়। ✴৫. অন্যের অযাচিত প্রশংসা করা।⏬
😷চুপ থাকার উপকারিতা:😷
✳১. মেহনতবিহীন ইবাদত। ✳২. সাম্রাজ্যবিহীন দাপট। ✳৩. দেওয়ালবিহীন দূর্গ। ✳৪. অস্ত্রবিহীন বিজয়। ✳৫. কিরামান কাতবীনের শান্তি। ✳৬. আল্লাহভীরুদের অভ্যাস। ✳৭. হেকমতের গুপ্তধন। ✳৮. মূর্খদের উত্তর। ✳৯. দোষসমূহ আবৃতকারী। ✳১০. গুনাহসমূহ আচ্ছাদনকারী।⏬
✅৩. অহেতুক গুসসা করা:
এটা অত্যন্ত খারাপ একটি আত্মিক ব্যাধি। রাগ দোযখের আগুনের একটি টুকরা এজন্য রাগান্বিত ব্যক্তির চেহারা লাল হয়ে যায়। এর কারণে মারামারি ঝগড়াঝাটি, গালাগালী, এমনকি খুনাখুনী পর্যন্ত সংঘটিত হয়।⏬
🔅এমনকি অনেকে বুদ্ধি বয়সে এসে তুচ্ছ ঘটনায় বিবিকে তিন তালাক দিয়ে পস্তাতে থাকে। মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: ঐ ব্যক্তি বাহাদুর নয় যে যুদ্ধের ময়দানে দুশমনকে নীচে ফেলে দেয় বরং ঐ ব্যক্তি বাহাদুর যে রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম। (বুখারী হাদীস নং ৬১১৪)⏬
😈গুসসার চিকিৎসা:😈
দুইভাবে গুসসার চিকিৎসা করা হয়। ✴১. ইলমী বা জ্ঞানগত পদ্ধতিতে ✴২. আমলী বা কার্যগত পদ্ধতিতে।⏬
📚ইলমী চিকিৎসা হলঃ📚
গুসসার সময় চিন্তা করতে হবে গুসসা কেন আসে? গুসসা আসার কারণ তো এটাই যে, যে কাজটি আল্লাহর ইচ্ছায় হয়েছে সে কাজটি আমার মনের মোতাবেক কেন হয়নি? কেন এটা আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী হল? তার মানে আমি আল্লাহর ইচ্ছাকে আমার ইচ্ছার অনুগত বানাতে চাই? নাউযুবিল্লাহ! এভাবে চিন্তা করলে গুসসার বদ অভ্যাস দূর হয়ে যাবে।⏬
📗আর আমলী চিকিৎসা হলঃ📗
গুসসা আসলে ✳১ (أعُوْذ ُبِاللهِ مِنَ الشيْطَانِ الرَّجِيْمِ) পড়বে, ✳২. নিজ অবস্থা পরিবর্তন করবে। অর্থাৎ, দাঁড়ানো থাকলে বসে পড়বে, বসে থাকলে শুয়ে পড়বে। ✳৩. যার প্রতি গুসসার উদ্রেক হয় তার সামনে থেকে সরে পড়বে। ✳৪. তারপরও গুসসা ঠান্ডা না হলে উযু করবে, নিজ গালকে মাটিতে লাগিয়ে দিবে। এভাবে আমল করলে গুসসা দূর হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।⏬
✅৪. হিংসা করা:
হিংসার সংজ্ঞাঃ কোন ব্যক্তিকে আরাম আয়েশ বা প্রাচুর্যপূর্ণ অবস্থায় দেখে তার সে নেয়ামত দূরীভূত হয়ে নিজের জন্য হাসিল হওয়ার আকাংখা করা। হিংসা অত্যন্ত জঘন্য একটি ব্যাধি।
☝আল্লাহ তা‘আলা হাদীসে কুদসীতে বলেনঃ আমার বান্দার উপর নেয়ামত দেখে হিংসাকারী কেমন যেন আমার ঐ বন্টনের ব্যাপারে অসন্তুষ্ট যা আমি আমার বান্দাদের মধ্যে করেছি। নাউযুবিল্লাহ। (এহয়াউ উলুমুদ্দীন-৩/২৯২)⏬
📚রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ “হিংসা নেকী সমূহকে এমনভাবে জ্বালিয়ে দেয় যেমন আগুন শুকনো লাকড়ীসমূহকে জ্বালিয়ে দেয়”। অবশ্য অন্যের কোন নেয়ামত দেখে সেটা তার মধ্যে বহাল থেকে নিজের জন্য হাসিল হওয়ার আকাংখা করা যাকে “গিবতা” বা “ঈর্ষা” বলে সেটা জায়েয। (আবূ দাউদ হাদীস নং-৪৯০৩)⏬
✅৫. কৃপণতা ও সম্পদের মোহ:
সম্পদের মোহই মূলতঃ কৃপণতার মূল আর সম্পদের মুহব্বাত মানুষকে দুনিয়ার দিকে আকৃষ্ট করে। যে কারণে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি মুহব্বাত দুর্বল হয়ে যায়।
☝এ কারণেই কুরআনে কারীমে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ যার ভাবার্থ হল: আল্লাহর দেয়া সম্পদে কৃপণতাকারীদের জন্য পরকালে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে। (সূরা আলে ইমরান আয়াত ১৮০)⏬
📚হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছেঃ তোমরা লোভকে নিয়ন্ত্রণ কর কারণ এটা তোমাদের পূববর্তী লোকদেরকে ধ্বংস করেছে। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং-২৫৭৮)
বাস্তবিক পক্ষে সম্পদের মোহ মানুষকে আল্লাহ পাক থেকে উদাসীন করে দেয়। এই সম্পদ মুসলমানদের জন্য ভয়াবহ এক ফেতনা।⏬
🔆অবশ্য শুধু সম্পদ কোন নিন্দনীয় ব্যাপার নয়। বিশেষতঃ যদি সে সম্পদ দীনী কাজে ব্যয় করা হয়। নতুবা জরুরত পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোন অসুবিধা নেই, যাতে কারো নিকট ভিক্ষার হাত বাড়াতে না হয়। এবং আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা যায়।⏬
✅৬. খ্যাতি ও পদের মোহ:
খ্যাতি ও পদের মোহ অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটি আত্মিক ব্যাধি। এর দ্বারা অন্তরে নিফাক সৃষ্টি হয়। এজন্য নিজেকে সব সময় লুকিয়ে রাখা চাই, খ্যাতির পিছনে পড়া অনুচিত। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ এই পরকাল আমি তাদের জন্যে নির্ধারিত করি, যারা দুনিয়ার বুকে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে ও অনর্থ সৃষ্টি করতে চায় না। (সূরা কিসাস-৮৩)⏬
📚হাদীসে পাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ “যদি কোন বকরীর পালের মধ্যে দুটি নেকড়ে প্রবেশ করে তাহলেও সেটা এত ক্ষতি করে না যতটা সম্পদ ও পদের মুহাব্বত দীনদার মুসলমানদের দীনের ক্ষতি করে।” (তিরমিযী হা: নং ২৩৮১, মুঃ আহমাদ হাঃ ১৫৭৯০)⏬
❇অবশ্য যদি কামনা-বাসনা ছাড়াই আল্লাহ তা‘আলা কাউকে সুখ্যাতি দান করেন হবে সেটা দোষণীয় নয়। যেমন নবীগণ (সাঃ). সাহাবীগণ (রাযি). তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ীগণ (রহ). তাঁদের প্রত্যেকেরই দুনিয়াতে খ্যাতি ছিল কিন্তু তাঁরা কেউ দুনিয়াতে খ্যাতি কামনা করেননি।⏬
✅৭. দুনিয়াপ্রীতি:
দুনিয়াপ্রীতি শুধু সম্পদ ও পদের মুহব্বাতকেই বলেনা বরং ইহজীবনে যে কোন অবৈধ কামনাকে পূর্ণ করার প্রচেষ্টা ও খাহেশকেই দুনিয়াপ্রীতি বলে। অবশ্য দীনী ইলম, মারিফাতে ইলাহী এবং সৎকর্ম যেগুলোর ফলাফল মৃত্যুর পর পাওয়া যাবে, সেগুলো যদিও দুনিয়াতেই সংঘটিত হয় কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে এসবের মুহব্বাতকে দুনিয়ার মুহব্বাত বলে না বরং এগুলো হলো আখেরাতের মুহব্বাত।
দুনিয়ার জীবনের নিন্দাবাদ করে মহান আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন “দুনিয়ার জীবনের সবকিছুই ধোঁকার সামান।” (সূরা আল ইমরান, আয়াত- ১৮৫)⏬
☝অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে যে, “দুনিয়ার সামানপত্র, রং তামাশা ও খেলাধুলা ছাড়া আর কিছুই নয়।” (সূরায়ে হাদীদ, আয়াত-২০)⏬
📚রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ দুনিয়া হল একটি মরা জন্তু যারা এটাকে লক্ষবস্তু বানিয়েছে তারা হল কুকুরের দল। দুনিয়ার ভোগ বিলাসকে উদ্দেশ্য না করে দুনিয়াকে আখেরাতের প্রস্তুতির হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তাহলে কামিয়াব হওয়া যাবে।⏬
✅৮. অহংকার করা:
তাকাব্বুর বা অহংকার এর অর্থ হলঃ প্রশংসনীয় গুণাবলীর মধ্যে নিজেকে অন্যের তুলনায় শ্রেষ্ঠ মনে করা এবং অন্যকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা, হক ও সত্যকে অস্বীকার করা। বলা বাহুল্য যে, যখন মানুষ নিজের ব্যাপারে এরূপ ধারণা পোষণ করে এবং আল্লাহর দেয়া গুণসমূহকে নিজের কৃতিত্ব মনে করে তখন তার নফস ফুলে উঠে, অতঃপর কাজকর্মে এর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেতে থাকে, উদাহরণস্বরূপ: রাস্তায় চলার সময় সাথীদের আগে আগে চলা, মজলিসে সদরের মাকামে বা সম্মানিত স্থানে বসা। অন্যদেরকে তাচ্ছিল্যের সাথে দেখা বা আচরণ করা অথবা কেউ আগে সালাম না দিলে তার উপর গুসসা হওয়া, কেউ সম্মান না করলে তার উপর অসন্তুষ্ট হওয়া, কেউ সঠিক উপদেশ দিলেও নিজের মর্জির খেলাফ হওয়ায় সেটাকে অবজ্ঞা করা। হক কথা জানা সত্ত্বেও সেটাকে না মানা। সাধারণ মানুষকে এমন দৃষ্টিতে দেখা যেমন গাধাকে দেখা হয় ইত্যাদি।⏬
📚পবিত্র কুরআন ও হাদীসের অনেক আয়াতে ‘অহংকার’ এর নিন্দাবাদ করা হয়েছে, অহংকারের কারণেই ইবলীস বেহেশত থেকে বিতাড়িত হয়েছে। অহংকারের কারণেই আবূ জাহাল মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সত্য জেনেও অস্বীকার করেছে।⏬
✅৯. আত্মতুষ্টি:
আত্মতুষ্টি বা নিজেকে নিজে সঠিক মনে করা মূলত: এটা অহংকারেরই ভূমিকা বা প্রাথমিক রূপ। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, অহংকারের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় নিজের নফসকে বড় মনে করা হয় আর আত্মতুষ্টির মধ্যে অন্যদের সাথে তুলনা করা ছাড়াই স্বীয় নফসকে নিজ খেয়ালে কামেল মনে করা হয়। এবং আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতসমূহকে নিজের হক মনে করা হয়, অর্থাৎ, এটাকে আল্লাহর দান ও অনুগ্রহ মনে করা হয় না এবং সেটা যে কোন মুহূর্তে ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে সে ব্যাপারে শংকাহীন হয়ে পড়া। এটাকেই তাসাওউফের পরিভাষায় “উজুব” বা “খোদপছন্দী” বলে। এটার চিকিৎসা করা না হলে এটাই কিছু দিন পরে অহংকারে পরিণত হয়ে বান্দাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়।⏬
✅১০. লোক দেখানো (রিয়া বা প্রদর্শনী):
রিয়া বলা হয় নিজ ইবাদত ও ভাল আমলের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে বড়ত্ব ও মর্যাদার আকাংখা করা।
✳এটা ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত ব্যাপার। কেননা ইবাদতের দ্বারা মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। এখন যেহেতু এই আমলের উদ্দেশ্যের মধ্যে অন্য শরীকও চলে এসেছে, বিধায় একে “শিরিকে আসগার” বা ছোট শিরক বলা হয়।⏬
☝কুরআনে কারীমে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ মানুষকে শুধুমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইবাদত করার হুকুম করা হয়েছে। (সূরায়ে বায়্যিনাহ আয়াত-৫)⏬
📚হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছেঃ “কিয়ামতের দিন সব`প্রথম যে তিন শ্রেণীর ব্যক্তিকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে তারা সবাই হবে রিয়াকার।” তারা সারা জীবন দীনের পথে থেকেও অন্তরের একটি রোগের কারণে সকলের পূর্বে জাহান্নামে যাবে। রিয়াকে “শিরকে খফী” বা গোপন শিরকও বলা হয়।⏬
👪রিয়ার সূরতসমূহঃ👪
মোট ছয় ভাবে রিয়া হতে পারে। ✴১। শরীরের দ্বারা ✴২। অঙ্গভঙ্গির দ্বারা ✴৩। আকৃতি অবলম্বনের দ্বারা ✴৪। কথাবার্তার দ্বারা ✴৫। আমলের দ্বারা ✴৬। নিজ মুরীদ ও ভক্তের আধিক্য ও নিজের ইবাদত বন্দেগীর বর্ণনার দ্বারা।*🔚
Saturday, May 8, 2021
কুরআন তিলাওয়াত শোনার উপকারিতা
📗কুরআনের তিলাওয়াত শোনার ৮টি অনবদ্য উপকারিতা📗*👇⬇👇 🌹🆗🌹
▬▬▬ ◈❥◈▬▬▬
📗আল কুরআন মহান আল্লাহর মর্যাদাপূর্ণ বাণী সমষ্টির এক অবিস্মরণীয় ও বিস্ময়কর গ্রন্থ। এটি এমন এক গ্রন্থ তা পাঠ করলে প্রতিটি অক্ষরে একটি করে সওয়াব লেখা হয় যা দশটির সমান। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لاَ أَقُولُ الم حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلاَمٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ
“যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করবে তার একটি সওয়াব হবে। আর একটি সওয়াব দশটি সওয়াবের অনুরূপ। আমি বলি না যে, “আলিফ-লাম-মীম” একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম আরেকটি হরফ। (অর্থাৎ তিনটি হরফে রয়েছে তিনটি সওয়াব যা ত্রিশটি সওয়াবের সমান)।” [সুনান তিরমিজী, হা/২৯১০, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পড়বে তার সাওয়াব কী হবে? অধ্যায়: ৪৮/ কুরআনের ফযিলত -সনদ সহিহ]⏬
❇সুতরাং যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করবে সে উক্ত সওয়াব লাভ করবে ইনশাআল্লাহ- চাই বুঝে পড়ুক অথবা না বুঝে পড়ুক, দেখে পড়ুক অথবা মুখস্থ পড়ুক, মুসহাফ দেখে পড়ুক অথবা মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি ডিভাইস থেকে পড়ুক, নামাজের মধ্যে পড়ুক অথবা নামাজের বাইরে পড়ুক। অনুরূপভাবে তিলাওয়াত শোনাতেও রয়েছে বিশাল সওয়াব, অসীম কল্যাণ ও অতুলনীয় উপকারিতা।⏬
📗নিম্নে কুরআন শ্রবণের ৮টি অনবদ্য উপকারিতা তুলে ধরা হলো:📗
✳● ১. আল্লাহর রহমত ও অনুকম্পা লাভ।
✴● ২. হেদায়েত (সঠিক পথের নির্দেশনা) লাভ।
✳● ৩. ঈমান বৃদ্ধি।
✴● ৪. সত্যকে চেনার উপলব্ধি সৃষ্টি।
✳● ৫. জ্ঞানার্জন।
✴● ৬. আল্লাহর সহজ ইবাদত।
✳● ৭. কুরআন তিলাওয়াত শোনা সুন্নত।
✴● ৮. মনে অনাবিল প্রশান্তি ও স্বস্তি লাভ।⏬
📗নিম্নে কুরআন তিলাওয়াত শোনার মর্যাদা ও উপকারিতার বিষয়গুলো সংক্ষেপে দলিল সহ উপস্থাপন করা হলো:⏬
✅১. আল্লাহর রহমত ও অনুকম্পা লাভ:
📗মনোযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শুনলে আল্লাহর রহমত ও অনুকম্পা লাভ হয়। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
“আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করো এবং নীরবতা অবলম্বন করো যাতে তোমরা রহমত (দয়া) প্রাপ্ত হও।" (সূরা আরাফ: ২০৪)⏬
📘তাফসিরে ত্ববারীতে এসেছে: আবু জাফর বলেন: “তোমরা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করো” এ কথার অর্থ হলো:
أصغوا له سمعكم، لتتفهموا آياته، وتعتبروا بمواعظه
“তোমরা কান লাগিয়ে শোনো যেনো আয়াতের অর্থ বুঝতে পারো এবং উপদেশ বার্তাগুলো থেকে উপদেশ গ্রহণ করো।” (তাফসিরে ত্ববারী)⏬
📚ইবনে কাসির (রাহ.) বলেন:
أمر تعالى بالإنصات عند تلاوته إعظاما له واحتراما
“আল্লাহ তাআলা কুরআন তিলাওয়াতের সময় নীরবতা অবলম্বন করার আদেশ করেছেন তার প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনার্থে।” (তাফসিরে ইবনে কাসির)⏬
✅২. হেদায়েত (সঠিক পথের নির্দেশনা) লাভ:
📗মনোযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শোনার পাশাপাশি তার অনুসরণ করলে আল্লাহ তাআলা হেদায়েত (সুপথ) দেখান। যেমন: তিনি বলেন,
الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ ۚ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّـهُ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ
“যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সুপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।" (সূরা যুমার: ১৮)⏬
☝আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا- يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ ۖ
“জিনদের একটি দল কুরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছে: আমরা বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি; যা সুপথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি।” (সূরা জিন: ১ -২)⏬
☝তিনি আরও বলেন,
وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنصِتُوا ۖ فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَىٰ قَوْمِهِم مُّنذِرِينَ - قَالُوا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَابًا أُنزِلَ مِن بَعْدِ مُوسَىٰ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَىٰ طَرِيقٍ مُّسْتَقِيمٍ
“যখন আমি একদল জিনকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম, তারা মনোযোগ সহকারে কুরআন পাঠ শুনছিলো। তারা যখন কুরআন পাঠের জায়গায় উপস্থিত হলো, তখন পরস্পর বললো, চুপ থাকো। অতঃপর যখন পাঠ সমাপ্ত হলো, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ক কারী রূপে ফিরে গেলো।” (সূরা আহকাফ: ২৯ ও ৩০)⏬
❇সুতরাং যে ব্যক্তি মনোযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শুনবে তার জীবন আল্লাহ দয়া ও অনুকম্পায় সিক্ত হওয়ার পাশাপাশি লাভ করবে হেদায়েত তথা সঠিক দিকনির্দেশনা। সে কুরআনে মধ্যে খুঁজে পাবে তার ব্যক্তিগতো জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, নানা প্রশ্নের উত্তর, চরিত্রিক উন্নয়ন, মানসিক প্রশান্তি ও আনন্দ মুখোর জীবনের রূপরেখা, পারিবারিক সুখ, সামাজিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা, আত্মিক পরিশুদ্ধতা, রাষ্ট্রীয় অবোকাঠামোগতো উন্নয়ন, সভ্যতা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সর্বোত্তম নীতি এবং সর্বোপরি আল্লাহর ইবাদতে সুগভীর পরিতৃপ্তি।⏬
👪তবে আমাদের ভাষা যেহেতু আরবি নয় সেহেতু কুরআন থেকে যথার্থভাবে হিদায়েত ও ফায়দা অর্জন করতে চাইলে তরজমা ও তাফসির সহ শোনার চেষ্টা করা উচিৎ।⏬
✅৩. ঈমান বৃদ্ধি:
📗তিলাওয়াত শ্রবণ করার মাধ্যমে অন্তরে ঈমান বৃদ্ধি পায়। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا
“আর যখন তাদের সামনে (কুরআন) তিলাওয়াত করা হয় হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়।” (সূরা আনফাল: ২)⏬
✅৪. সত্যকে চেনার উপলব্ধি সৃষ্টি:
📗গভীর মনোযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করার পাশাপাশি তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করার ফলে অন্তরে আল্লাহ ভীতি সৃষ্টি হয় এবং সত্য উপলব্ধির অন্তর চক্ষু উন্মোচিত হয়। ফলে এই উপলব্ধি থেকে দুচোখ বেয়ে অশ্রু বিগোলিতো হয়। যেমন: আল্লাহ তা'আলা সাহাবীদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে গিয়ে বলেন,
وَإِذَا سَمِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَىٰ أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوا مِنَ الْحَقِّ
“আর তারা রসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা যখন শুনে তখন আপনি তাদের চোখ অশ্রু সজল দেখতে পাবেন; এ কারণে যে, তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে।” (সূরা মায়িদা: ৮৩)⏬
✅৫. জ্ঞানার্জন:
📗যে কোনো বিষয়ে জ্ঞানার্জনের চাবিকাঠি হলো, মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা (রহ.) বলেন:
أوّل العلم الاستماع، ثم الفهم، ثم الحفظ، ثم العمل ثم النشر]فإذا استمع العبد إلى كتاب الله تعالى وسنّة نبيه ﷺ بنيّة صادقة على ما يحب الله؛ أفهمه كما يحب، وجعل له في قلبه نوراً ].
تفسير القرطبي ١٧٦/١١.
“জ্ঞানের প্রথম ধাপ হলো, মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা। তারপর বুঝা, তারপর মুখস্থ করা, তারপর কর্মে বাস্তবায়ন করা, তারপর প্রচার ও প্রসার করা। সুতরাং বান্দা যখন আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের আল্লাহর পছন্দ মতো সৎ নিয়তে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করে আল্লাহ তাকে তা বোঝার ক্ষমতা দান করেন যেভাবে তিনি পছন্দ করেন এবং তার অন্তরে আলো ঢেলে দেন।” (তাফসিরে কুরতুবী ১১/১৭৬)⏬
❇সুতরাং মনোযোগ দিয়ে শুনার মাধ্যমে হ্রদয়ে অনেক অজানা তথ্যের উন্মেষ ঘটে, জ্ঞান-বুদ্ধি ও বোধশক্তির উন্নতি সাধিত হয় এবং বিচক্ষণতা বৃদ্ধি পায়। এভাবে মানুষ নানাভাবে উপকৃত হয়। তাই তো আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَذِكْرَىٰ لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ
“এতে (কুরআনে) উপদেশ রয়েছে তার জন্যে, যার অনুধাবন করার মতো অন্তর রয়েছে অথবা যে নিবিষ্ট মনে শ্রবণ করে।” (সূরা ক্বাফ: ৩৭)⏬
✅৬. সহজ ইবাদত:
📗কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করা একটা ইবাদত। কারণ তিনি আমাদেরকে কুরআন শোনার নির্দেশ দিয়েছেন। (যেমনটি উপরোক্ত কুরআনের আয়াত ও হাদিস সমূহ)। সুতরাং শুনার মাধ্যমেও আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যায় এবং অর্জিত হয় অবারিতো সওয়াব।
(যদিও তিলাওয়াত শুনলে তিলাওয়াত করার সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবে কি না সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো হাদিস পাওয়া যায় না।)⏬
⭕আর এটি এতো সহজ ইবাদত যে, আমরা বাড়িতে, গাড়িতে, অফিসে, দোকানে, রাস্তায় চলতে চলতে, দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে যে কোনো অবস্থায় খুব সহজে তা করতে পারি। বর্তমানে আধুনিক টেকনোলোজি, অডিও, মেমরি আর স্মার্ট ফোনের যুগে তা আরও সহজ হয়ে গেছে আলহামদুলিল্লাহ।⏬
✅৭. কুরআন তিলাওয়াত শোনা সুন্নত:
হাদিসে এসেছে:
عن عبدالله بن مسعود قال: "قال لي رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم - وهو على المنبر: ((اقرأْ عليّ))، قلتُ: أَقْرَأُ عليك وعليك أُنْزل؟ قال: ((إني أحبُّ أنْ أسمعَه من غيري))، فقرأتُ سورة النساء، حتى أتيتُ إلى هذه الآية: ﴿ فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا ﴾ [النساء: 41].
قال: ((حَسْبُك الآن))، فالْتَفَتُّ إليه، فإذا عيناه تذرفان؛ متفق عليه
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, “আমাকে তুমি তিলাওয়াত করে শুনাও।”
👪আমি বললাম: আমি আপনাকে তিলাওয়াত শোনাবো অথচ আপনার ওপরই এটি অবতীর্ণ হয়েছে?
তিনি বললেন: “আমি অন্যের তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করি।” অতঃপর আমি তাঁকে সূরা নিসা পড়ে শুনাতে লাগলাম। যখন আমি فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا “অতএব কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবো এবং তোমাকে উপস্থিত করবো তাদের উপর সাক্ষী রূপে? ”(সূরা নিসা: ৪১) পর্যন্ত পৌঁছলাম তিনি বললেন: “ব্যস, যথেষ্ট হয়েছে।”
তখন আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম তাঁর চোখ থেকে অঝোর ধারায় অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে।” [সহিহ বুখারী : ৫০৫০ ও মুসলিম : ১৯০৩]⏬
✅৮. মনে অনাবিল প্রশান্তি ও স্বস্তি লাভ:
📗কুরআন নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা, পরস্পরে অধ্যয়ন, তিলাওয়াত করা ও শুনা ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহর দয়ায় সিক্ত হওয়ার পাশাপাশি হৃদয়ে নেমে আসে অনাবিল প্রশান্তি ও অভূতপূর্ব স্বস্তির সুবাতাস। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ تَعَالَى يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ إِلاَّ نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَحَفَّتْهُمُ الْمَلاَئِكَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ
আবু হুরায়রা (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: “যখন কিছু লোক আল্লাহর কোনো এক ঘরে একত্রিত হয়ে কুরআন পাঠ করে এবং একে অপরের সাথে কুরআন নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা ও অধ্যয়ন করে তখন তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হয়, আল্লাহর রহমত তাদেরকে আচ্ছাদিতো করে, ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাআলা ঐ সমস্ত বান্দাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের সামনে উল্লেখ করেন।” [সুনানে আবু দাউদ, হা/১৪৫৫ অধ্যায়ঃ ২/ সালাত, পরিচ্ছদ: ৩৫৫. কুরআন তিলাওয়াতের সাওয়াব সম্পর্কে (ইফা)]⏬
❇মোটকথা, কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণের মধ্যে সওয়াব অর্জনের পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন দিক দিয়ে উপকার লাভ করতে পারি। শোনার মাধ্যম যাই হোক না কেনো। কেউ যদি ক্বারি সাহেবের সরাসরি তিলাওয়াত শুনে অথবা তার ধারণকৃতো তিলাওয়াত ইউটিউব, মোবাইল মেমরী, সিডি, ল্যাপটপ ইত্যাদিতে থেকে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে তাহলে আল্লাহর সর্ববৃহৎ নিয়ামত হিদায়েত বা সুপথ প্রাপ্তি এবং তাঁর অসীম দয়া ও অনুকম্পার শীতল বারি বর্ষণে জীবন হয়ে উঠবে ফুল-ফলে সুশোভিত ও সঞ্জীবিত। মনের মধ্যে অর্জিত হবে অনাবিল জান্নাতি সুখ ও প্রশান্তি এবং দূর হবে সকল অন্ধকার, হতাশা, অস্থিরতা, কষ্ট এবং দু:শ্চিন্তা।
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﺟْﻌَﻞِ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﺭَﺑِﻴﻊَ ﻗَﻠْﺒِﻲ ﻭَﻧُﻮﺭَ ﺻَﺪْﺭِﻱْ ﻭَﺟِﻼَﺀَ ﺣُﺰْﻧِﻲْ ﻭَﺫَﻫَﺎﺏَ ﻫَﻤِّﻲْ
“হে আল্লাহ, কুরআনকে তুমি আমার হৃদয়ের প্রশান্তি, আমার বক্ষের জ্যোতি, আমার চিন্তা-ভাবনার অপসারণকারী এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিদূরীত কারীতে পরিণতো করো।” আমিন।🔚
Monday, January 11, 2021
অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ থেকে বাঁচার উপায়
অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ থেকে বাঁচার শরীয়ত সম্মত উপায়
❓*স্বপ্নদোষ অতিরিক্ত হলে তা থেকে বাঁচার শরীয়ত সম্মতো উপায় কি।❓👇🆗👇
😈স্বপ্নদোষ সাধারণতো শয়তানের পক্ষ থেকে হয় ।বয়ঃসন্ধিকালের পর বা বয়ঃসন্ধিকালে স্বপ্নদোষ হতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে বা মেয়ে যখন বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আগ্রহী হয়, তখন শয়তানের প্ররোচনায় স্বপ্নদোষ হয়। স্বপ্নদোষে গোসল করা ফরজ হয়। স্বপ্নদোষ যেনো অতিরিক্ত না হয়, *এর করণীয়ঃ⏬
✅১) ঘুমানোর আগে ওযু করে পবিত্র হয়ে ঘুমাতে হবে।ওযু করলে শয়তান দূরে থাকে। এতে করে স্বপ্নদোষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
✅২) ঘুমাতে যাওয়ার আগে “আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু আহইয়া অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আপনার নামে মৃত্যুবরণ করছি এবং আপনার নামেই পুর্নজীবিতো হই। (বুখারী, হা/6312)
✅৩) দুই হাতের তালু একত্রে করে এর মধ্যে সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস তিনবার করে পাঠ করে ফু দিবে. পরে পুরো শরীর মুছে দিবেন, যতোদুর সমভব (মাথা ও মুখ মনডল সহ) (বুখারী, হা/5017)⏬
✅৪) আয়াতুল কুরসী পাঠ করা। (বুখারী, হা/3275) ফজিলত – একজন ফেরেশতা নিয়োগ করে দেন বান্দার উপকারে। এতে করে শয়তান কোনো ক্ষতি করতে পারে না।⏬
✅৫) ডান কাতে শুয়ে ও ডান হাত গালের নিচে দিয়ে নিচের দোয়াটি পড়বেন. আল্লাহুম্মা কিনি’ইআযা- বাকা ইয়াওমা তাবআসু ইবাদাকা অর্থাৎ হে আল্লাহ! যেদিন আপনি আপনার বান্দাগণকে পুর্নজীবিতো করবেন. সে দিনের (পরকালীন) আযাব হতে আমাকে বাঁচান। তিনবার পড়তে হবে। (আবু দাউদ,/5045; তিরমিযী, হা/3398)
✳[বিঃদ্রঃ উপুড় হয়ে ঘুমালে স্বপ্নদোষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য কাত হয়ে
ঘুমাতে হবে।]⏬
✅৬) সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২৮৫ ও ২৮৬) পাঠ করবেন। (বুখারী ও মুসলিমে আছে,) যে বেক্তি এই দুই আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য এই আয়াত দুটোই যতেষ্ট হবে। মানে বিপদাপদ ও শয়তানের অনিষ্ঠ থেকে রক্ষা পাবে। (বুখারী, হা/5009 ও মুসলিম, হা/807)🔚
🌙DUA"MEI"YAAD"RAKHNA🌙
قرانی معلومات تعداد حروف وغیرہ
القرآن
کل آیات 6666
کل سورتیں 114
کل الفاظ 86430
کل حروف 322671
کل زبر 53243
کل زیر 39582
کل پیش 8804
کل رکوع 540
کل نقطے 105682
کل مدّات 105682
کل تشدیدات 1253
قرآن کے صفاتی نام 55
حروف کے اعتبار سے آدھا قرآن : سورۃ کھف آیت کے لفظ وَلیَتَلَطَّف کی (ف) پر آدھا قرآن ہوتا ہے۔
قرآن پاک کا موضوع: انسان
غرض و غایت: ہدایت انسانی
جامع القرآن: سیدنا عثمان غنی (25ھ میں لغت قریش پر نسخہ تیار کیا گیا)
ترجمان القرآن: حضرت عبداللہ بن عباس کو کہتے ہیں۔
پہلے کاتب وحی: حضرت خالد بن سعید ابی العاص
سب سے بڑا قاری: حضرت ابی بن کعب (صحابی) (نزول وحی کے اعتبار سے آخری وحی کے کاتب بھی یہی ہیں۔)
علوم القرآن کی تعداد: 70450 علوم و فنون ہیں (امام جلال الدین سیوطی)
مکی سورتیں: 65
مدنی سورتیں: 18
مکی و مدنی (مشترکہ) سورتیں: 31
سجدہ ہائے تلاوت: 14 (متفق علیہ) 1 مختلف فیہ
حروف مقطعات والی سورتیں: 29 (14حروف تہجی استعمال ہوئے ہیں)
سب سے بڑی سورۃ: البقرہ
سب سے چھوٹی سورہ: الکوثر
سب سے بڑی آیت: (آیۃ المدانیۃ یا آیت دین)
سب سے چھوٹی آیت: مدھٰامَّتٰن
سب سے پہلی وحی: 17 رمضان المبارک یکم نبوی اگست 610ء (اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ۔)
سب سے آخری وحی: 3 ربیع الاوّل 11ھ۔
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلاَمَ دِينًا
کاتبانِ وحی: کم وبیش 40 صحابہ کرام
مراحل انزال: لیلۃ القدر میں بیت العزۃ میں یکبارگی اتارا گیا۔
زمانہ فترت 6 ماہ کا عرصہ جس میں وحی کا سلسلہ بند رہا۔
نمبرشمار اقسام آیاتِ قرآن تعداد
1. آیاتِ وعد 1000
2. آیاتِ وعید 1000
3. آیاتِ نہی 1000
4. آیاتِ اوامر 1000
5. آیاتِ امثال 1000
6. آیاتِ قصص 1000
.7 آیاتِ تحلیل 250
.8 آیاتِ تحریم 250
9. آیاتِ تسبیح 100
.10 آیاتِ متفرقہ 66
پہلی وحی: اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ
آخری وحی: الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلاَمَ دِينًا
مقام پہلی وحی: غار حرا
مقام آخری وحی: میدان عرفات برموقع خطبہ جمعۃ الوداع
عرصہ ءِ نزولِ قرآن: 22سال 2ماہ چند دن (کم و بیش 23سال)
مضامین: علم الاحکام، علم المخاصمۃ، علم تذکیر بالا۔۔، علم تذکیر بالموت وما بعدہ
لفظ قرآن: پورے قرآن میں لفظ قرآن 68 مرتبہ آیا ہے۔
سورتوں کے القاب:
سورۃ البقرہ: سنام القرآن (قرآن کی کوہان) فسطاط القرآن (قرآن کا خیمہ)
سورۃ یٰسین: قلب القرآن (قرآن کا دل)
سورۃ الرحمن: عروس القرآن (قرآن کی دلہن)
انبیاء کے نام پر سورتیں:
یونس، ھود، یوسف، ابراہیم، نوح، محمد
شخصیات کے نام پر سورتیں:
مریم، لقمان، لہب
طبقات کے نام پر سورتیں:
النساء، الشعراء، الجن، الانبیاء، المؤمنون، المنافقون
اقوام کے نام پر:
اٰل عمران، بنی اسرائیل، قریش
حشرات اور جانوروں کے نام پر:
النحل، النمل، العنکبوت، الفیل، البقرۃ، الانعام
جگہ اور ملک کے نام پر:
الحجر، الکھف، الروم، السباء، احقاف، الحجرات، الطور، البلد
فلکیات کے نام پر:
الرعد، النور، الدخان، النجم، القمر، الطارق، الشمس، البروج
اشیاء کے نام پر:
المائدہ، الانفال، الحدید، القلم، المعارج، التِّین، الماعوں
اوقات کے نام پر:
الدھر، الفجر، الیل، الضُّحیٰ، العصر
عبادت کے نام پر:
سورۃ الحج
ایام کے نام پر:
سورۃ الجمعۃ
اسمائے قرآن:
القرآن، الفرقان، التنزیل، الذکر، الکتاب، الشفاء، الرحمۃ، ھدی، الحق، نورالمبین، الموعظہ، الحکمۃ، البلاغ، القول الفصل، حبل اللہ، احسن الحدیث، العروۃ الوثقیٰ، عبرہ، البرھان، صراط مستقیم، المیزان، القرآن الحکیم، القرآن الکریم، قرآن مجید، البیان، خیر، مصحف وغیرہ
Wednesday, November 25, 2020
دس بڑے جرائم والے ممالک
دنیا میں سب سے زیادہ جسم فروشی کی شرح رکھنے والے 10 ممالک:
1. تھائی لینڈ (بدھ)
2. ڈنمارک (عیسائی)
3. اطالوی (عیسائی)
4. جرمن (عیسائی)
5. فرانس (عیسائی)
6. ناروے (عیسائی)
7. بیلجیم (عیسائی)
8. ہسپانوی (عیسائی)
9. برطانیہ (عیسائی)
10. فن لینڈ (عیسائی)
دنیا میں سب سے زیادہ ڈکیتی کی شرح والے 10 ممالک:
1. زمبابوے (عیسائی)
2.آسٹریلیا (عیسائی)
3.کینیڈا (عیسائی)
4. نیوزی لینڈ (عیسائی)
5. ہندوستان (ہندو)
6.انگلینڈ اور ویلز (عیسائی)
7.ڈنمارک اور فن لینڈ (عیسائی)
8. ریاستہائے متحدہ U.S.A(عیسائی)
9. سویڈن (عیسائی)
10. جنوبی افریقہ (عیسائی)
دنیا میں سب سے زیادہ شراب نوشی کے شکار 10 ممالک:
1) مالڈووا (عیسائی)
2) بیلاروس (عیسائی)
3) لیٹھوانیا (عیسائی)
4) روس (عیسائی)
5) جمہوریہ چیک (عیسائی)
6) یوکرین (عیسائی)
7) انڈورا (عیسائی)
8) رومانیہ (عیسائی)
9) سربیا (عیسائی)
10) آسٹریلیا (عیسائی)
وہ ممالک جن میں دنیا میں سب سے زیادہ قتل عام کی شرح ہے:
1. ہونڈوراس (عیسائی)
2. وینزویلا (عیسائی)
3. بیلیز (عیسائی)
4. ایل ساوڈور (عیسائی)
5. گوئٹے مالا (عیسائی)
6. جنوبی افریقہ (عیسائی)
7. سینٹ کٹس اینڈ نیوس (عیسائی)
8. بہاماس (عیسائی)
9. لیسوتھو (عیسائی)
10. جمیکا (عیسائی)
دنیا میں 10 خطرناک غنڈہ گردی کے گروہوں کے نام:
1. یاکوزہ (غیر مسلم)
2. ایگبرس (عیسائی)
3. واہ سنگ (عیسائی)
4. جمیکا پوسی (عیسائی)
5. پریمیرو (عیسائی)
6. آریائی اخوان (عیسائی)
7. خون (عیسائی)
8. اسٹریٹ گینگ 18th (عیسائی)
9. منگکی (عیسائی)
10. مارا سالاروتھا (عیسائی)
دنیا میں منشیات کے کارٹوں کے بڑے نام:
1. پابلو اسکوبار - کولمبیا (عیسائی)
2. اماڈو کیریلو - کولمبیا (عیسائی)
3. کارلوس لیہڈر - جرمن (عیسائی)
4. گریسیلڈا بلانکو - کولمبیا (عیسائی)
5. جوکون گزمین - میکسیکو (عیسائی)
6. رافیل کیرو - میکسیکو (عیسائی)
لیکن کہا جاتا ہے کہ دنیا میں اسلام تشدد کی وجہ ہے؟
ہم نے اس پر یقین کرنا شروع کر دیا ہے آپ سے بھی درخواست کی جاتی ہے کہ آپ خود بھی تحقیق کریں. شُکریہ
واٹس ایپ کے ایک گروپ سے کاپی کردہ
Sunday, November 15, 2020
যিকিরের হাকীকত ও ফযীলত
জিকিরের হাকীকত ও ফজীলত সম্পর্কে আল্লামা মনযুর নোমানী রহ এর খুব সুন্দর প্রামাণ্য আলোচনা।
🎍🌼 *যিকিরের হাকীকত ও ফযীলত*🌼🎍
💎 *আল্লামা মনজূর নূমানী রহঃ* 💎
ইসলামী শিক্ষার মূলকথা হলো, আল্লাহর বান্দা আল্লাহর হুকুম-মতো জীবন যাপন করবে এবং সকল কাজে আল্লাহ পাকের আনুগত্য করবে। সর্বাবস্থায় বান্দার দিলে যখন আল্লাহ পাকের কথা স্মরণ থাকবে, আল্লাহ পাকের ভয় ও মুহাব্বত যখন তার অন্তরে স্থান করে নেবে, কেবল তখন সকল কাজে আল্লাহ তাআলার হুকুমের সামনে আত্মসমর্পন করা সম্ভব হবে। এই জন্য বেশি বেশি যিকির করা ইসলামের একটি বড় শিক্ষা।
যে ব্যক্তি বেশি বেশি তসবি পাঠ করে, তার অন্তরে আল্লাহ পাকের ভয়, মর্যাদা ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। এটা পরীক্ষিত সত্য। আপনি যার রূপগুণের ধ্যানে দিনরাত মশগুল থাকবেন, তার মর্যাদা ও ভালোবাসা আপনার অন্তরে অবশ্যই গেঁথে যাবে এবং শনৈ শনৈ তা বৃদ্ধি লাভ করবে।
তেমনি যারা সবসময় আল্লাহর যিকিরে মগ্ন থাকে, যাদের জিহ্বা আল্লাহ পাকের যিকিরে সতেজ থাকে, তাদের অন্তর আল্লাহর মুহাব্বত ও আজমত এবং বড়ত্ব ও ভালোবাসায় পূর্ণ হয়ে যায়। এশক ও ভালোবাসার চেরাগ তাদের আত্মাকে আলোকিত করে তোলে। মোটকথা, ভালোবাসা ব্যতীত আনুগত্য পূর্ণতা পায় না। সুতরাং আল্লাহ পাকের আনুগত্যশীল বান্দা হতে হলে অন্তরে তাঁর ভালোবাসা পয়দা করতে হবে। আর তা হবে বেশি বেশি যিকির করার দ্বারা। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا. وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا
হে মুমিনগণ! তোমরা বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর নামে তসবি পাঠ করো। সূরা আহযাব ৩৩/৪১-৪২
অন্য আয়াতে বলেন,
وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করো। তাহলে তোমরা সফলকাম হবে। সূরা জুমুআ ৬২/১০
দুটি জিনিসের পিছনে পড়ে মানুষ আল্লাহকে ভুলে যায়। আল্লাহ পাক সে-সম্পর্কে মুমিন বান্দাদের সতর্ক করে বলেন,
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের মালদৌলত আর বিবি-বাচ্চারা যেন তোমাদেরকে আল্লাহর যিকির থেকে বেখবর করে না ফেলে। এমনটা যারা করে, আসলেই তারা ক্ষতিগ্রস্ত। সূরা মুনাফিকূন ৬৩/৯
পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ এবং নিঃসন্দেহে তা আল্লাহ পাকের যিকির, বরং উত্তম প্রকারের যিকির। কিন্তু কোনো মুসলমানের জন্য এটা সঙ্গত নয় যে, সে শুধু নামাযের যিকিরে সীমাবদ্ধ থাকবে, নামাযের বাইরে কোনো যিকির করবে না এবং আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করবে না। বরং ইসলামের নির্দেশ এই যে, তুমি যে অবস্থাতেই থাকো, আল্লাহর যিকির থেকে গাফেল হয়ো না। আল্লাহ পাক বলেন,
فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِكُمْ
যখন নামায শেষ হয়ে যাবে, তখন দাড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহর যিকির করতে থাকবে। সূরা নিসা ৪/১০৩
যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছে, তাদেরকে যুদ্ধাবস্থায়ও বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করার নিদের্শ দেয়া হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে,
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোনো শক্রবাহিনীর মুখোমুখী হও, তখন দৃঢ়পদ থাকো এবং বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করো, তাহলে তোমরা সফল হবে। সূরা আনফাল ৮/৪৫
আয়াতগুলো থেকে বোঝাগেলো, যিকিরের মাঝে মুসলমানদের সফলতার বিরাট দখল রয়েছে এবং যারা আল্লাহর যিকির থেকে গাফেল তারা ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তেমনি একটি আয়াতে এসেছে,
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
মনে রেখো! আল্লাহর যিকিরের দ্বারাই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। সূরা রাআদ ১৩/২৮
হাদীস শরীফে এসেছে,
أَيُّ العِبَادِ أَفْضَلُ دَرَجَةً عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ القِيَامَةِ؟ قَالَ: الذَّاكِرُونَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتُ. إسناده ضعيف
নবীজীর নিকট জানতে চাওয়া হলো, কেয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচে মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত কী হবে? নবীজী বললেন, আল্লাহর যিকির, যিকিরকারী চাই সে পুরুষ হোক বা নারী। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩৭৬
অন্য হাদীসে নবীজী বলেন,
مَثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ وَالَّذِي لاَ يَذْكُرُ رَبَّهُ، مَثَلُ الحَيِّ وَالمَيِّتِ
যে আল্লাহকে পাককে স্মরণ করে, আর যে করে না, তাদের দু’জনের উদাহরণ জীবিত আর মৃতের মতো। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪০৭
অর্থাৎ যে আল্লাহ তাআলার যিকির করে না, সে হলো মৃত। একটি হাদীসে নবীজী এরশাদ করেন,
إِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ صِقَالَةً، وَإِنَّ صِقَالَةَ الْقُلُوبِ ذِكْرُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَمَا مِنْ شَىْءٍ أَنْجَى مِنْ عَذَابِ اللَّهِ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ. إسناده ضعيف
প্রত্যেক জিনিসের জং দূর করার জন্য রেত থাকে। আত্মার জং দূর করার রেত হলো যিকির। আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচার জন্য উসিলা হিসাবে যিকিরের চে প্রভাবশালী কোনো আমল আর নেই। দাওয়াতে কাবীর বায়হাকী, হাদীস নং ১৯
যিকিরের হাকীকত
যিকিরের মূল কথা হলো, বান্দা যেন আল্লাহকে ভুলে না যায়। যে কাজে বা যে অবস্থায় বান্দা থাকুক, সে যেন আল্লাহ পাকের হুকুম বিস্মৃত না হয়। এর জন্য সর্বক্ষণ মুখে আল্লাহ পাকের নাম জপা শর্ত নয়। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, সবসময় যাদের অন্তরে আল্লাহ পাকের কথা স্মরণ থাকে, তাদের জিহ্বাও সর্বক্ষণ আল্লাহ পাকের যিকিরে সচল থাকে। আর এই অবস্থা অর্জন হয় তাদের, যারা বেশি বেশি মুখে যিকির করার মাধ্যমে দিল ও দেমাগে আল্লাহ পাকের ধ্যান ও খেয়ালের একটি বিশেষ আবহ তৈরি করে নেয় এবং আল্লাহ তাআলার সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। তাই অধিক হারে মৌখিক যিকিরও গুরুত্বপূর্ণ। অথচ কেউ কেউ বেশি বেশি মৌখিক যিকির করাকে অনর্থক কাজ মনে করে। আমাদের মতে তাদের ধারণা যথার্থ নয়। যেহেতু হাদীসে পাকে স্পষ্ট এসেছে,
يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ شَرَائِعَ الإِسْلَامِ قَدْ كَثُرَتْ عَلَيَّ، فَأَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ أَتَشَبَّثُ بِهِ، قَالَ: لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ
জনৈক সাহাবী নবীজীর নিকট আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! ইসলামে তো অনেক আমলই আছে। আমাকে আপনি একটি আমলের কথা বলেদিন, যা আমি আজীবন আঁকড়ে থাকবো। নবীজী বললেন, তোমার জিহবা যেন সবসময় আল্লাহর যিকিরে আদ্র থাকে। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩৭৫
অন্য এক হাদীসে এসেছে,
أَنَا مَعَ عَبْدِي إِذَا هُوَ ذَكَرَنِي وَتَحَرَّكَتْ بِي شَفَتَاهُ.
আল্লাহ পাক বলেন, বান্দা যখন আমাকে স্মরণ করে এবং আমার যিকিরে তার ঠোঁট দুটি নড়তে থাকে, তখন আমি তার সঙ্গী হয়ে যাই। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৭৯২
১. নবীজীর শেখানো বিশেষ কিছু যিকির
এক:
হাদীস শরীফে এসেছে,
أَفْضَلُ الذِّكْرِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ
সর্বোত্তম যিকির হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩৮৩
অন্য হাদীসে এসেছে,
مَا قَالَ عَبْدٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ قَطُّ مُخْلِصًا، إِلاَّ فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، حَتَّى تُفْضِيَ إِلَى العَرْشِ، مَا اجْتَنَبَ الكَبَائِرَ.
যখন কোনো বান্দা পূর্ণ এখলাসের সাথে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে, তখন আসমানের সবগুলি দরজা খুলে যায় এবং এই কালিমা সরাসরি আল্লাহ পাকের আরশে পৌঁছে যায়, যদি সে বান্দা কবিরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৯০
একটি হাদীসে এসেছে, হযরত মুসা আলইহিস সালাম আল্লাহ পাকের নিকট আরজ করলেন,
يَا رَبِّ عَلِّمْنِي شَيْئًا أَذْكُرُكَ بِهِ وَأَدْعُوكَ بِهِ، قَالَ: يَا مُوسَى: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، قَالَ مُوسَى: يَا رَبِّ: كُلُّ عِبَادِكَ يَقُولُ هَذَا، قَالَ: قُلْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، إِنَّمَا أُرِيدُ شَيْئًا تَخُصَّنِي بِهِ، قَالَ: يَا مُوسَى، لَوْ أَنَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعَ وَعَامِرَهُنَّ غَيْرِي، وَالْأَرَضِينَ السَّبْعَ فِي كَفَّةٍ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ فِي كَفَّةٍ مَالَتْ بِهِنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ. صححه الحافظ ابن حجر في الفتح
হে আল্লাহ! আমাকে এমন কোনো কালিমা বাতলে দিন, যার দ্বারা আমি আপনার যিকির করতে পারি। উত্তর এলো, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ দ্বারা আমার যিকির করো। হযরত মুসা বললেন, এই কালিমা দ্বারা তো সবাই যিকির করে! আমি এটা ছাড়া বিশেষ কোনো কালিমা জানতে চাই। ইরশাদ হলো, হে মুসা! যদি সপ্তাকাশ ও তথাকার সমুদয় সৃষ্টি এবং সাত তবক জামিন এক পাল্লায় রাখা হয়, আর অন্য পাল্লায় এই কালিমা রাখা হয়, তবে এই কালিমার পাল্লাই অধিক ভারী হয়ে যাবে। সুনানে কুবরা নাসাঈ, হাদীস নং ১০৬০২
সত্যিই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এমনই ওজনী। কিন্তু লোকেরা একে একটি সাধারণ বাক্য বলে মনে করে। একজন আল্লাহ্র ওলী এক বিশেষ হালতে আমাকে লক্ষ্য করে বলেন,
‘কারো কাছে যদি দুনিয়ার সমস্ত সম্পদও থাকে এবং আমাকে বলে, তুমি দুনিয়ার এই সমস্ত সম্পদ নিয়ে যাও, বিনিময়ে তোমার একবারের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আমাকে দিয়ে দাও, তবে এই ফকির তাতে রাজী হবে না।’
এটা অতিরঞ্জন নয়, সত্য। আল্লাহ্ পাকের কোনো বান্দার ঈমান ও একীন যখন এ-পর্যায়ে উন্নীত হয়, তখন সে বুঝতে পারে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর মূল্য ও মর্যাদা কতো।
দুই:
এক হাদীসে নবীজী বলেন,
أَفْضَلُ الكَلاَمِ أَرْبَعٌ: سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالحَمْدُ لِلَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
সকল কথার সেরা কথা এবং সকল কালিমার শ্রেষ্ঠ কালিমা হলো চারটি: ‘সুবহানাল্লাহ্’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ‘আল্লাহু আকবার’। সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৮৩৯
অন্য হাদীসে এসেছে,
لأَنْ أَقُولَ سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ.
যতদূর পৃথিবীর উপর সূর্য উদিত হয়, ততদূূর পৃথিবীর চেয়েও আমার কাছে ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘ওয়ালহামদুল্লিাহ্’ ‘ওয়াল্লাহু আকবার’ বলা অধিক প্রিয়। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬৯৫
কিছু হাদীসে ‘আলল্লাহু আকবার’ এর পর ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’-ও এসেছে। একে ‘কালিমায়ে তামজীদ’ বলে। কালিমায়ে তামজীদ আল্লাহ পাকের প্রশংসা ও স্তুতি বর্ণনার একটি পূর্ণাঙ্গ ওজিফা। আমাদের এক বুযুর্গ কালিমায়ে তামজীদের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘সুবহানাল্লাহ্’ অর্থ আল্লাহপাক সকল দোষ-ত্রুটির উর্ধ্বে এবং যা কিছু তাঁর শান-উপযোগী নয়, তা থেকে তিনি পূতপবিত্র। ‘আলহামদুলিলল্লাহ্’ অর্থ সমস্ত সৌন্দর্য, যোগ্যতা ও পূর্ণতার অধিকারী তিনি। অতএব সকল প্রশংসা তাঁর। যখন একমাত্র তিনিই সকল গুণাবলীর আধার এবং সকল দোষ-ত্রুটির ঊর্ধ্বে, তখন ইবাদতের উপযুক্তও কেবল তিনি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। আমরা তাঁর অক্ষম বান্দা। আর তিনি মহিয়ান ‘আল্লাহু আকবার’। কখনো আমরা তার ইবাদতের হক আদায় করতে পারবো না, যদি না তিনি সহায় হোন ‘লা হাওলা ওয়া লাকুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’
তিন:
একটি প্রসিদ্ধ হাদীসে এসেছে, নবী-কন্যা হযরত ফাতেমা রাজিয়াল্লাহু আনহা নিজ হাতে ঘরের কাজ করতেন। নিজেই পানি আনতেন, চাক্কি ঘুরিয়ে আটা পিষতেন। একবার তিনি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরজ করলেন, এই কাজগুলো করতে আমার জন্য একটি চাকরানীর ব্যবস্থা করে দিন। তখন নবীজী কন্যা ফাতেমা ও জামাতা আলীকে বললেন,
إِذَا أَوَيْتُمَا إِلَى فِرَاشِكُمَا، أَوْ أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا، فَكَبِّرَا ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ، وَسَبِّحَا ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ، وَاحْمَدَا ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ، فَهَذَا خَيْرٌ لَكُمَا مِنْ خَادِمٍ
আমি তোমাদেরকে এর চেয়েও উত্তম জিনিস শিখিয়ে দিচ্ছি, তোমরা শোয়ার সময় তেত্রিশবার ‘আল্লাহু আকবার’ তেত্রিশবার ‘সুবহানাল্লাহ্’, এবং তেত্রিশবার ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ এবং পড়বে। এটা চাকর-বাকরেরচেও অনেক উত্তম। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩১৮
একে ‘তাসবীহে ফাতেমী’ বলা হয়।
অন্য হাদীসে এই তাসবিহগুলির ফজীলত সম্পর্কে এসেছে,
مَنْ سَبَّحَ اللهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَحَمِدَ اللهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَكَبَّرَ اللهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، فَتْلِكَ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ، وَقَالَ: تَمَامَ الْمِائَةِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ
যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাজের পর তেত্রিশবার ‘সুবহানাল্লাহ্’, এবং তেত্রিশবার ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ এবং চৌত্রিশবার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়বে এবং শেষে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাই ইন কদীর’ পড়বে, আল্লাহ পাক তার সমস্ত (ছগীরা) গোনাহ্ মাফ করে দিবেন, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয় না কেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৯৭
চার:
একটি হাদীসে এসেছে,
مَنْ قَالَ: حِينَ يُصْبِحُ وَحِينَ يُمْسِي: سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، مِائَةَ مَرَّةٍ، لَمْ يَأْتِ أَحَدٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ
যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা একশবার করে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী’ পড়বে, কেয়ামতের দিন তার চে’ অধিক সওয়াব নিয়ে কেউ উঠতে পারবে না। হ্যাঁ, যে এর সাথে অন্য আমলও করে তার কথা ভিন্ন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬৯২
পাঁচ:
অন্য একটি হাদীসে এসেছে,
كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ، ثَقِيلَتَانِ فِي المِيزَانِ، حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ، سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ العَظِيمِ
দুটি কালিমা উচ্চারণে সহজ, কিন্তু মিযানের পাল্লায় অনেক ভারী এবং দয়াল আল্লাহ নিকট খুবই প্রিয়। ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহী সুবহানাল্লাহিল আযীম। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬৮২
উল্লিখিত যিকিরগুলির দুই একটি যিকিরও যদি কেউ নিয়মিত করতে থাকে, তবে তার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
যিকিরের ক্ষেত্রে একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, যিকিরের দ্বারা সওয়াব লাভের বিষয়টি বিশেষ কোনো রীতি-পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল নয়। যিকিরের যে কোনো কালিমা যে কোনো সংখ্যায় কোনো বান্দা এখলাসের সঙ্গে পড়বে, ইনশাআল্লাহ সে পূর্ণ সওয়াব লাভ করবে। তবে পীর-মাশায়েখগণ যে বিশেষ পদ্ধতি ও সংখ্যায় যিকির করার তালীম দেন, তা সেভাবেই করা উচিৎ। কারণ তাদের সামনে সওয়াব ছাড়াও অতিরিক্ত কিছু উদ্দেশ্য থাকে।
যেমন, আল্লাহ পাকের মুহাব্বত বৃদ্ধি পাওয়া, অন্তর নরম হওয়া, চোখে পানি আসা, সবসময় অন্তরে আল্লাহ্র উপস্থিতি অনুভব করা, কলবের রোগ-ব্যাধি দূর হওয়া ইত্যাদি। এই উদ্দেশ্যগুলি সাধনের জন্য হক্কানী পীর ও মাশায়েখগণের শেখানো জায়েয তরীকা অনুসারে যিকির করা আবশ্যক। অন্যথায় এ উদ্দেশ্যগুলি অর্জন করা সহজ নয়। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে, যেমন কেউ শুধু সওয়াবের জন্য সুরা ইয়াসীন তেলওয়াত করছে।
তাহলে সে সকাল-সন্ধ্যা একবার একবার তেলওয়াত করবে। ফাঁকে-ফাঁকে আরও কয়েকবার তেলওয়াত করতে পারে। এতেই যথেষ্ঠ হয়ে যাবে। কিন্তু যে সুরা ইয়াসীন মুখস্ত করতে চায়, তাকে সকাল-সন্ধ্যায় বা ফাঁকে-ফাঁকে তেলওয়াত করলে হবে না, বরং বিশেষ প্রক্রিয়ায় একনাগাড়ে বহুবার তেলওয়াত করতে হবে। অন্যথায় সওয়াব পেলেও মুখস্ত হবে না।
ব্যস, সাধারণ যিকির এবং অলী-বুযুর্গদের বিশেষ পদ্ধতির যিকিরের মাঝে এই যা পার্থক্য। এই স্বাভাবিক পার্থক্য না বোঝার কারণে অনেকে বিভ্রান্ত হয়। আল্লাহপাক সকলকে বোঝার তাওফীক দান করুন, আমীন।
কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করা
আজকালের কতিপয় লোকের ধারণা, না বুঝে কোরআন তেলওয়াত করা একটি অর্থহীন কাজ। তারা কোরআন শরীফকে অন্যান্য আইনের বই কিংবা উপদেশমূলক গ্রন্থের মতোই মনে করে। সেগুলি যেমন অর্থ না বুঝে পড়া নিরর্থক, তেমনি কোরআন শরীফও না বুঝে পড়া নিরর্থক! অথচ কোরআন শরীফ অন্যান্য গ্রন্থের মত নয়, বরং তা আল্লাহ পাকের কালাম।
কেউ যদি অর্থ না বোঝে, কিন্তু ভক্তি ও ভালবাসা নিয়ে তেলাওয়াত করে, তবে তাতেও অনেক ফায়দা হয়। কেননা তেলাওয়াত ভিন্ন একটি ইবাদত। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, কোরআন নাজিলের মূল উদ্দেশ্য হলো হেদায়েত ও নসীহত। আর এই নসীহত ও হেদায়েত বুঝে বুঝে তেলাওয়াত করার দ্বারা অর্জন হয়। সুতরাং বুঝে বুঝে তেলাওয়াত করতে পারা অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। তাই কোরআন শরীফের অর্থ বোঝার চেষ্টা করা একান্ত কর্তব্য।
কোরআন তেলাওয়াত আল্লাহ পাকের উত্তম যিকির। হাদীস শরীফে এসেছে,
وَفَضْلُ كَلاَمِ اللهِ عَلَى سَائِرِ الكَلاَمِ كَفَضْلِ اللهِ عَلَى خَلْقِهِ. قال ابن حجر في الفتح: رجاله ثقات إلا عطية العوفي ففيه ضعف
সমস্ত মাখলুকের উপর আল্লাহ পাকের ফজীলত যেমন, সমস্ত কালামের উপর আল্লাহ তাআলার কালামের ফজীলতও তেমন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৯২৬
অন্য হাদীসে এসেছে,
مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، لاَ أَقُولُ الم حَرْفٌ، وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلاَمٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ.
যে ব্যক্তি কোরআন শরীফের একটি অক্ষর পাঠ করবে, সে দশ নেকী সমান একটি নেকী পাবে। আর আমি এটা বলছি না যে, ‘আলিফ-লাম-মীম’ পুরোটা একটি হরফ। বরং ‘আলিফ’ একটি হরফ। ‘লাম’ আরেকটি হরফ এবং ‘মীম’ ভিন্ন একটি হরফ। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৯১০
এক হাদীসে তেলাওয়াতের ফজীলত সম্পর্কে এসেছে,
اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ
হে লোক সকল! তোমরা তেলাওয়াত করো, কেয়ামতের দিন তেলাওয়াতকারীদের জন্য কোরআন শরীফ সুপারিশ করবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮০৪
কিছু পরামর্শ
এক.
বেশি বেশি যিকির করার কারণে যাদের অন্তরে আল্লাহর নাম জারি হয়ে গেছে এবং যিকির যাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে, তাদের জন্য সময় সংখ্যা ঠিক করে যিকির করার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য আপন আপন অবস্থা বিবেচনা করে এবং শৃঙ্খলাগত প্রয়োজনে যিকিরের সময় ও সংখ্যা ঠিক করে নেয়া জরুরি। এক্ষেত্রে কোনো আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তির পরামর্শ গ্রহণ করা ভালো। আর কোরআন তেলাওয়াতের জন্যও একটি রুটিন থাকা উচিৎ।
দুই.
যথাসম্ভব যিকির করার সময় অর্থের প্রতি লক্ষ্য করা এবং আল্লাহ পাকের বড়ত্ব ও ভালোবাসা অন্তরে জাগরুক রাখা একান্ত কাম্য । এই ধ্যান রাখাও কাম্য যে, আল্লাহ পাক আমার সঙ্গে আছেন। তিনি আমাকে দেখছেন এবং আমার যিকির শুনছেন।
তিন.
অযু ছাড়াও যিকির করা যায়। ইনশাআল্লাহ এতে সওয়াব কম হবে না। তবে অযুর সাথে যিকির করলে যিকিরের প্রভাব অধিক ভালো হয় এবং অন্তরে নূর পয়দা হয়।
চার.
কালিমায়ে তামজীদ তথা ‘সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্রাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ এই যিকিরটিকে সব যিকিরের সমষ্টি বলা যেতে পারে। প্রায় সকল ওলী-বুযুর্গরা মুরীদদেরকে এই যিকির শিখিয়ে থাকেন। সাথে এস্তেগফার ও দরুদ শরীফ পড়তে বলেন।
এস্তেগফার ও দরুদ শরীফ সম্পর্কে উনিশ ও বিশতম পাঠে আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের কলবকে তাঁর এশক ও মুহাব্বতে পূর্ণ করে দিন। আমাদের যবানকে তার যিকিরে সচল করে দিন এবং যিকিরের নূর ও বরকত আমাদের সকলকে নসীব করুন, আমীন।
*AHLUS SUNNATI ALL JAMAT GROUP*
Subscribe to:
Posts (Atom)
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দশটি কর্তব্য
🌙*ইসলামে একজন স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ১০টি দায়িত্ব এবং কর্তব্য* 📗শরীয়তের হুকুম গুলোর মধ্যে বিবাহ অন্যতমো একটি হুকুম। বিবাহ হলো শরীয়ত মোতাবে...
-
القرآن کل آیات 6666 کل سورتیں 114 کل الفاظ 86430 کل حروف 322671 کل زبر 53243 کل زیر 39582 کل پیش 8804 کل رکوع 540 کل نقطے 105682 ک...